ভিডিও ভাইরাল
প্রবল জোয়ার ভেসে যাচ্ছিলেন ৪ পর্যটক, উদ্ধার করলেন গ্রাম পুলিশ
ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬ | ১৮:২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে প্রবল জোয়ারে ভেসে যাওয়া চার পর্যটককে লাইফবোট নিয়ে উদ্ধার করেছে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ। ঘটনাটি গত সোমবার ঘটলেও সেটি আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় ডুবতে থাকা পর্যটকদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওতে দেখা যায় উদ্ধারের চিত্র।
এরআগে গত ২৩ মে বিকেল একইভাবে সৈকতে গোসলে নেমে ভেসে যান মুহাম্মদ রিফাত হোসেন (১৮) নামে এক তরুণ। প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর উপকূল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
এ দিকে ফেসবুকে এ ঘটনায় অনেকেই পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞ অমান্য করাকে দায়ী করছেন। আবার অনেকে পর্যটন এলাকায় টুরিস্ট পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা দেখভালের জন্য সরকারি কোনো লোকজন না থাকাকেও দায়ী করেছেন।
রবিন হোসেন নামে একজন ফেসবুকে লেখেন, ‘ধন্যবাদ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের। কিন্তু এদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে এসে ছেড়ে দিলে হবে না। উচিত শিক্ষা দিতে হবে।’
এস্কান্দর হোসেন নামে এক ব্যক্তি ভাইরাল ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে লেখেন, ‘বড় বড় ঢেউ দেখার পরও যদি মরার জন্য কেউ নেমে ডুবে যায়, সেখানে কাকে দায়ী করা যাবে। কিছু পর্যটক কারো কথা শুনে না।’
উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একজন নুরুল আমিন বলেন, ‘গত সোমবার আমরা পাঁচজন গ্রাম পুলিশ সদস্য সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলাম। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৈকতে জোয়ার আসে। এ সময় প্রচুর পর্যটক সাগরে গোসলে নামে। হঠাৎ দেখতে পাই, চারজন পর্যটক একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যান। আমরা বুঝতে পারি তারা আর ফিরে আসতে পারবে না। কারণ বড় বড় ঢেউ হচ্ছিল। আবার তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমি আর আমার সহকর্মী সফর আলী মিলে সৈকতে থাকা একটি লাইফবোট চালককে ম্যানেজ করে তাদেরকে উদ্ধার করি। নৌকায় তোলার পর ক্লান্ত হয়ে তারা শুয়ে পড়েন।’
নুরুল আমিন বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার ছেলে। আমরা বিষয়টি বুঝতে পারি কতটুকু গেলে একজন পর্যটক বিপদজনক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। যারা সাঁতার কাটে তাদেরকে দেখলে বুঝা যায় তারা কেমন সাঁতার পারে। আমরা ইউনিফর্ম পড়ে তাদেরকে সতর্ক করছি। তবুও তারা শুনতে চান না। বাঁশি বাজিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে সৈকত থেকে তাদেরকে তুলতে হয়।’
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, গত সোমবারে চার পর্যটক ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে লাল পতাকা টাঙ্গানো এবং সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানোর নির্দেশ দেন। গতকাল সতর্কতামূলক বিভিন্ন সাইনবোর্ড এবং লাল পতাকা টাঙ্গানো হয়। পর্যটকদের সাগরের নামার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশদের আরও সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
