ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

অর্ধসমাপ্ত সড়ক, কাদা-ধুলায় একাকার পথে ভোগান্তি

অর্ধসমাপ্ত সড়ক, কাদা-ধুলায় একাকার পথে ভোগান্তি
×

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া থেকে ঠাকুর লক্ষ্মীকোল সোনার মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে -সমকাল

 নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬ | ০৮:০৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নাটোর সদর উপজেলার দিঘাপতিয়া থেকে ঠাকুর লক্ষ্মীকোল সোনার মোড় পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির কাজ এক বছরেও শেষ না হওয়ায় ধুলাবালিতে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার, তদারকির অভাব এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কাজটি থমকে আছে। ফলে কোথাও কোথাও সড়কের খোয়া উঠে গিয়ে ধূলি-সাম্রাজ্যের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চালকদের পাশাপাশি আশপাশের বাসিন্দারাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন।

জানা যায়, ৫ কোটি ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসাইন এন্টারপ্রাইজ। পরে তারা ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল নাটোরের মেসার্স লেলিন এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে কাজ বাস্তবায়নের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এক বছরে শুধু বালু ও খোয়া বিছিয়ে রোলার দেওয়া ছাড়া উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এরই মধ্যে প্রায় ৯৬ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর আগে খোয়া দিয়ে রোলার করেছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে আর বর্ষায় কাদাপানিতে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যায়।’ চকফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মীর মিন্টু অভিযোগ করেন, ‘শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। নিয়মিত তদারকি না থাকায় প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই জনভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কাজ করে মানুষকে ধোকা দেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকর্মী মোর্শেদ আলী বলেন, ‘ধুলাবালির কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে।’ শিক্ষার্থী রাসেল আহমেদ জানায়, ‘স্কুলে গেলে কাপড় নোংরা হয়ে যায়। এই সড়ক দ্রুত সংস্কার না হলে চলাচল কঠিন হয়ে পড়বে।’

এদিকে, দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি তারা চক ফুলবাড়ী ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করে স্বস্তি ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন। দ্রুত কাজ শেষ না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লেলিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জিয়াউর রহমান লেলিন বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাব, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের খুঁটি সরাতে বিলম্ব হওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে।’ তিনি নিম্নমানের কাজের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ করা হয়েছে।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল হোসেন বলেন, ‘কাজটির প্রায় ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। বৈশ্বিক কারণে সময়মতো কাজ শেষ করা যায়নি, তাই সাত মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও নিম্নমানের কাজের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×