ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীর মাথার চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ
×

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

মির্জাপুরে যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্বামী আপন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিমু আক্তার। গতকাল বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক প্রদীপ চন্দ্র সরকার।
শিমু আক্তার (১৯) মির্জাপুর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের লতিফপুর গ্রামের শাজাহান মিয়ার মেয়ে। তাঁর স্বামী আপন মিয়া একই উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের গোড়াইল গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে। আপন মিয়া কক্সবাজারের রামুতে সৈনিকপদে কর্মরত।

জানা গেছে, দেড় বছর আগে আপন মিয়া ও শিমু আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর মোটরসাইকেল কেনার জন্য ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন আপন। 
আর্থিকভাবে অসচ্ছল থাকায় যৌতুকের টাকা দিতে পারেনি শিমুর পরিবার। এ কারণে তাঁর ওপর শুরু হয় নির্যাতন। গত ২১ মে ঈদের ছুটিতে গোড়াইল গ্রামের বাড়িতে আসেন আপন মিয়া। এরপর ২৩ মে যৌতুকের টাকা না পেয়ে শিমুর মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ঈদের পরের দিন ২৯ মে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ধেরুয়া জলকুটির এলাকায় বেড়াতে যান। সেখানে শিমুর শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেন। এ সময় গৃহবধূর গলায় থাকা একটি স্বর্ণের হার ও কানের দুল নিয়ে যান স্বামী। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যার দিকে তাঁকে মারধর করে অজ্ঞান অবস্থায় লতিফপুর এলাকার রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান আপন। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়ে শিমুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা করান। এ সব ঘটনায় গত ২ জুন স্বামী আপন মিয়াসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন শিমু আক্তার।
শিমু আক্তার বলেন, বিয়ের আগে একটি মেয়ের সঙ্গে তাঁর স্বামীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই মেয়ে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে উঠেছিল। যৌতুকের জন্য শারীরিকভাবে নির্যাতন করে তাঁকে (শিমু) অনেক মারধর করা হয়েছে, তবুও তাঁর সংসার করতে চেয়েছেন। কিন্তু এখন আর পারছেন না বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাঁর স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সুষ্ঠু বিচার চান তিনি।

ফোনে যোগাযোগ করলে আপন মিয়া বলেন, ‘দেওহাটা এলাকার সাগর নামে একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক ছিল শিমুর। আমি তাঁকে নির্যাতন করিনি। কিছুদিন আগে টাইফয়েড জ্বর হয়। ডাক্তারের পরামর্শে শিমুর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।’
লতিফপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী হোসেন রনি জানান, ওই গৃহবধূর পরিবার একাধিকবার তাঁর কাছে এসেছিল। তারা গ্রাম্য সালিশে বিচার না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ 
নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×