জমি নিয়ে বিরোধে হামলা-সংঘর্ষে আহত ২৫ জন, ১৪৪ ধারা জারি
নান্দাইল উপজেলার খারুয়া বাজারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান সমকাল
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
জমি নিয়ে বিরোধে হামলা-সংঘর্ষ ও দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত নান্দাইল উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের খারুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করায় উপজেলা প্রশাসন সেখানে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
গতকাল দুপুরে খারুয়া বাজারে দিয়ে দেখা গেছে, সুনসান নীরবতা। বাজারের ভেতরে থাকা প্রধান সড়কে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের বেশ কয়েকটি গাড়ি। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে বাজারের উত্তর পাশে ৬১৯ নম্বর দাগের ৯ শতক জমি কেনেন স্থানীয় শওকত আলী, আবু সাঈদ, আইনুল ও মাইনুল। ১০ বছর আগে শওকত আলী ছাড়া অন্য তিনজন তাদের জমি বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুর রউফের স্ত্রী মনোয়ারা সুলতানার কাছে বিক্রি করে দেন। তারা সড়কের পাশের অংশ বিক্রি করেছেন বলে চৌহদ্দিতে উল্লেখ করেন। কিন্তু সড়কের পাশের অংশের দখল ছাড়তে রাজি হচ্ছেন না শওকত আলী। এটা নিয়ে দুই-তিন বছর ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। কয়েক দিন আগে বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা শওকত আলীর একটি সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে একটি সীমানা পিলার পুঁতে রাখে প্রতিপক্ষ। পরে শওকত আলীর লোকজন সেই পিলার তুলে ফেলে। এসব বিষয় নিয়ে গত বুধবার শওকত আলীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আব্দুর রউফের দোকান এবং বাড়িতে হামলা করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে ফিরে আসে। কিন্তু উত্তেজনা থাকায় নান্দাইল থানার ওসির নেতৃত্বে এক দল পুলিশ বাজারে অবস্থান নিয়ে সেখানে রাত কাটায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার পুলিশের উপস্থিতিতেই উভয় পক্ষের লোকজন হামলা-সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে সেখানে যান নান্দাইলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনতোষ বিশ্বাসের নেতৃত্বে তিন প্লাটুন পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্য সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করায় বাজার এলাকায় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
জমির ক্রেতা মনোয়ারা সুলতানার বাড়িতে গেলে তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িঘর এবং বাজারে থাকা একটি দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে। প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালপত্র নিয়ে গেছে। তাঁর ছেলে মাহফুজুর রহমান জানান, তারা বা তাদের লোকজন কোনো প্রকার হামলার সঙ্গে জড়িত নন।
অভিযুক্ত শওকত আলীর ভাষ্য, সড়কের পাশের অংশে ঘর নির্মাণ করে কেনা জমি ভোগদখল
করে আসছেন তিনি। এখন মনোয়ারা সুলতানার স্বামী আব্দুর রউফ লোকজন নিয়ে তাঁর জায়গার দখল নিতে চাইছে। বিষয়টি নিয়ে সালিশ হলেও মাতবররা তাঁকে সামনের অংশ ভোগদখলের রায় দেন, যা নিয়ে বিরোধে হামলা চালিয়েছে
প্রতিপক্ষ। তাঁর একটি ফার্নিচারের দোকান এবং তাঁর ভাইয়ের রড-সিমেন্টের একটি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।
ঘটনাস্থলে থাকা নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, গত বুধবার থেকে উত্তেজনা দেখা দিলে ফোর্স নিয়ে বাজারে থাকেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই উভয়
পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, জমি নিয়ে বিরোধে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছিল। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
ইউএনও ফাতেমা জান্নাতের ভাষ্য, বাজারের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সেখানে ১৪৪ ধারা জারির পাশাপাশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- হামলা
