জেলা পরিষদে যুবদল কর্মীরা পেটালেন বিএনপি নেতাকে
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ চত্বরে মারধরের শিকার জেলা বিএনপি নেতা অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া সমকাল
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:২৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে এক বিএনপি নেতাকে বেধড়ক পিটিয়েছেন যুবদল নেতার অনুসারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পরিষদের ভেতরে এক অনুষ্ঠানে তর্কের জেরে এ মারধরের ঘটনা ঘটে।
অকিল উদ্দিন ভূঁইয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তাঁর অভিযোগ, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনির সঙ্গে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তর্কের পর রনির নির্দেশে এ হামলা চালানো হয়। কিল-ঘুষিতে তাঁকে রক্তাক্ত করা হয়।
যদিও মারধরের বিষয়টি দুঃখজনক আখ্যায়িত করে জড়িত অনুসারী কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন যুবদল নেতা মশিউর রহমান রনি। তিনি বলেন, বিষয়টি একেবারেই অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ঘটনায় আমার কিছু অনুসারী জড়িত আছেন, কিন্তু এতে আমার কোনো নির্দেশনা ছিল না। তাৎক্ষণিক উত্তেজনায় ঘটনাটি ঘটে গেছে। আমি অতি উৎসাহী কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। তিনি যুবদলের চারজনকে বহিষ্কারের কথাও জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা পরিষদের উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা, রক্তদান কর্মসূচি, জিয়াউর রহমানের দুর্লভ ছবি প্রদর্শনী ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলছিল। এ আয়োজন উদ্বোধন ঘোষণা করেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ। এ সময় পরিষদের কর্তাদের সঙ্গে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অডিটোরিয়ামে শিশুদের চিত্রাঙ্কন দেখতে যান জেলা পরিষদের প্রশাসক। এ সময় বিগত দিনে দলীয় কর্মসূচি ও আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে; মশিউর রহমান রনি ও অকিল উদ্দিন ভূঁইয়ার তর্ক হয়। তখন পরিষদ প্রশাসক ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে অকিলকে তেড়ে মারতে আসেন রনির সমর্থকরা। ওই পর্যায়ে বিষয়টি সেখানে মৌখিকভাবে মিটিয়ে দেন জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিএনপি নেতা অকিল বলেন, সিনিয়র নেতারা সেখানেই বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছিলেন। আমি আর রনি একসঙ্গেই সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসি। কিন্তু মূল ভবনের গেট পার হওয়ার পরই আমার ওপর রনির লোকজন হামলা চালায়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদকে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
- বিষয় :
- মারধর
