ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জাল সনদে রোগীর পথ্য সরবরাহের কাজ পেল যুবদল নেতার প্রতিষ্ঠান

জাল সনদে রোগীর পথ্য সরবরাহের কাজ পেল যুবদল নেতার প্রতিষ্ঠান
×

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর পথ্য ও মনিহারি সামগ্রী সরবরাহে ঠিকাদার মনোনীত হয়েছে আদ্র এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এটি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইসলাম হোসেনের মালিকানাধীন। অভিযোগ উঠেছে, অভিজ্ঞতার ভুয়া সনদ জমা দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে কাজটি বাগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মনোনীত প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞতার সনদ জাল দাবি করে তা বাতিলের জন্য আবেদন করেছেন আরেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোল্লা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. কহিনুর ইসলাম। তিনি মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন, সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

কহিনুর ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ২৮ এপ্রিল সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মনিহারি সামগ্রী ও রোগীদের পথ্য সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে তিনিসহ আরও চারজন অংশগ্রহণ করেন। তিনি ২৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮১২ টাকা উল্লেখ করে দরপত্র জমা দেন। গত ২ জুন মঙ্গলবার আদ্র এন্টারপ্রাইজকে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ঠিকাদার মনোনীত করে মূল্যায়ন কমিটি। প্রতিষ্ঠানটি ২৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬০০ টাকা দর উল্লেখ করে। একই সঙ্গে তারা রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি অভিজ্ঞতার সনদপত্র দাখিল করে। ওই সনদে দেখানো হয়েছে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর পথ্য ও মনিহারি সামগ্রী সরবরাহে আদ্র এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত ছিল।

ঠিকাদার কহিনুর ইসলাম বলেন, আদ্র এন্টারপ্রাইজ ২০২৪ সালে ১ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিবন্ধিত হয়। কিন্তু দরপত্রে অভিজ্ঞতার সনদপত্র দেখানো হয়েছে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের। ফলে সনদ যে ভুয়া তা প্রমাণিত। কিন্তু মূল্যায়ন কমিটি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করেই ঠিকাদার হিসেবে মনোনীত করে আদ্র এন্টারপ্রাইজকে চিঠি দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে ৬ মাসের জন্য টেন্ডার হয়েছিল। এতে তিনি ১৩ লাখ ৪১ হাজার টাকায় কাজ পেয়েছেন। নতুন ঠিকাদার মনোনীত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পণ্য সরবরাহ করছেন।
কহিনুর ইসলামের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এই প্রতিবেদক রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্টোরকিপার দুলাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুলাল হোসেন জানান ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে আদ্র এন্টারপ্রাইজ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান রোগীর পথ্য ও মনিহারি সামগ্রী সরবরাহ করেনি। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল তারিখের ১০০৮ নম্বর স্মারকে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত যে অভিজ্ঞতার সনদ আদ্র এন্টারপ্রাইজ জমা দিয়েছে তা সঠিক নয় বলেও জানান তিনি। কারণ ওই তারিখে ১০০৮ নম্বর কোনো স্মারক নেই।
এ ব্যাপারে আদ্র এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসলাম হোসেন বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে নিবন্ধন করা হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠান কখনও পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে কাজ করেনি। তিনি দাবি করেন, আদ্র এন্টারপ্রাইজ তাঁর মালিকানাধীন হলেও দরপত্র দাখিল করেছেন সিংগাইর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম। দরপত্রের কাগজপত্রও জমা দিয়েছেন সফিকুল ইসলাম। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই বলতে পারবেন না।

যোগাযোগ করা হলে সিংগাইর পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সফিকুল ইসলাম বলেন, মূল্যায়ন কমিটি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই আদ্র এন্টারপ্রাইজকে মনোনীত করে চিঠি দিয়েছে। দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই অভিজ্ঞতার সনদ জাল কিনা তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে আদ্র এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইসলাম হোসেন ভালো বলতে পারবেন।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার রাফসান রেজা সমকালকে বলেন, ৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ নেয়। মূল্যায়ন কমিটি দরপত্র যাচাই-বাছাই করে আদ্র এন্টারপ্রাইজকে মনোনীত করে চিঠি দিয়েছে। জাল সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে  যাচাই করে সত্যতা মিললে তাদের সঙ্গে চুক্তি হবে না। সেক্ষেত্রে নতুন ঠিকাদার মনোনীত করা হবে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, অভিযোগের কাগজ হয়তো অফিসিয়ালি জমা দিয়েছেন। কিন্ত আমার কাছে এখনও আসেনি। কাগজ পেলে বিষয়টি দেখা হবে।
 

আরও পড়ুন

×