কৃষক সহায়তার তালিকায় চেয়ারম্যান ও নেতাদের নাম, বঞ্চিতদের বিক্ষোভ
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার পাইরাকুটি ইউনিয়নে দুর্যোগে বোরো ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন বা ক্ষতিগ্রস্ত হননি এমন ব্যক্তির নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এমনকি সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও তাদের পরিবারের লোকজনকেও এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ইউনিয়নের তালিকাভুক্তদের মধ্যে সহায়তার টাকা ও চাল বিতরণের কথা ছিল। বঞ্চিত কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে চেয়ারম্যান সহায়তা বিতরণ না করেই ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, চলতি বছর অতিবৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতার কারণে ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পাইকুরাটি ইউনিয়নে ৮৮৬ জনের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১০ মে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হককে আহ্বায়ক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত বিশ্ব শর্মাকে সদস্য সচিব, পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব মোর্শেদ খোকন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ সরকার, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যবৃন্দ, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে সদস্য করে যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। গত বুধবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রকাশ হলে বঞ্চিত কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়।
তালিকাভুক্তদের মধ্যে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক, তাঁর ছোট ভাই সাজ্জাদুল হক জুয়েল, বিএনপি নেতা মাহাবুব মোর্শেদ খোকন, তাঁর ছোট ভাই নিক্সন তালুকদার, তাঁদের চাচাতো ভাই এমএম রেজার (পহেল) নাম রয়েছে। পহেলের নাম এসএম রেজা হিসেবে একই তালিকার অন্য ক্রমিকেও রয়েছে। পহেল গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এ ছাড়াও তালিকাভুক্ত হয়েছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ছোট ভাই মোবারক হোসেন যতন, যতনের চাচাতো ভাই উজ্জ্বল মিয়া, খায়রুল ইসলাম, তোফায়েল আহমেদ। খায়রুল ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামানের আপন ছোট ভাই এবং যতন, উজ্জ্বল ও তোফায়েল নুরুজ্জামানের চাচাতো ভাই।
তালিকায় ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনবুলসহ কৃষির সঙ্গে জড়িত নন কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হননি এমন ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। গত বুধবার রাতে তালিকা প্রকাশ হলে অনেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে সহায়তার টাকা ও চাল বিতরণের কথা ছিল। কিন্তু সকাল থেকেই বঞ্চিত কৃষকেরা সেখানে বিক্ষোভ করতে থাকেন এবং তালিকা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান। কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম শুরুই করতে পারেননি ইউপি চেয়ারম্যান।
যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব মোর্শেদ খোকন বলেন, ‘আমার গ্রামে ৪০০ কৃষক। এর মধ্যে সহায়তার ৫০টি কার্ড পাওয়া গেছে। এই ৫০টি কার্ড কাকে দেব? তাই কমিটিতে থাকিনি। তালিকা প্রণয়নে আমার কোনো সম্পৃক্ততা বা স্বাক্ষর নাই। ।’
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, যাচাই-বাছাইয়ে তাঁকে সাধারণ সদস্য রাখা হয়। এ কারণে তিনি তালিকায় স্বাক্ষর করেননি।
- বিষয় :
- বিক্ষোভ
