হত্যা মামলার আসামিকে ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের ব্যবসায়ী রিপন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আমজাদ হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডিবির একটি টিম সিদ্ধিরগঞ্জের বদর উদ্দিন মার্কেট থেকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।
হত্যা মামলার বাদি নিহতের স্ত্রী নূর জাহান বেগম বলেন, আমজাদ হোসেন রিপন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি। আমরাই গোয়েন্দা পুলিশকে আমজাদের অবস্থানের ব্যাপারে তথ্য দেই। গত বুধবার রাতে আমাদের তথ্যের ভিত্তিতে তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আমরা তাঁর ভিডিও করতে চাইলে ডিবি বাধা দেয়। তাঁকে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে জানায়। সঙ্গে যেতে চাইলেও আমাদের নেয়নি। গতকাল দুপুরে তাঁকে হত্যা মামলায় চালান না করে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠায়। নূর জাহান বেগমের অভিযোগ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিরাজ সাহার নেতৃত্বে একটি টিম আমজাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু এসআই বিরাজ সাহা আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে তাঁকে হত্যা মামলার পরিবর্তে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠান। যাতে তিনি দ্রুত জামিনে ছাড়া পেয়ে পালিয়ে যেতে পারেন।
মামলায় নূর জাহান বেগম উল্লেখ করেন– কালাপাহাড়িয়ার এলাকার আউয়াল, সেন্টু মিয়া, পিয়ার আলী, সোহেল, শফিকুল ইসলাম, রিজভি, ফারদিন, আমজাদ হোসেন, তোফাজ্জল হোসেনসহ আরও কয়েকজন রিপন মিয়ার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। রিপন তা না দেওয়ায় ২০২৫ সালের ৭ জুলাই রাত আড়াইটার দিকে এজাহারভুক্ত আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে মারাত্মক আহত করে। দুই মাস ৯ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে হামলার মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।
বাদি নূর জাহান বেগম দাবি করেন, আমার স্বামী রিপন হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকেই পুলিশ অনেকটা অনীহাভাব নিয়ে মামলাটি তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হলেও তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না। পরে আদালতের মাধ্যমে আবেদন করে মামলাটি সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়ার জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে এসআই বিরাজ সাহার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী হত্যা মামলার আসামিকে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানোর একটি ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, এই আসামিকে অনেকটা মব সৃষ্টি করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জেনেছি আমজাদ হোসেন রিপন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি। কিন্তু আমরা তাঁর সিডিআর তুলে দেখেছি। হত্যাকাণ্ড যেদিন সংগঠিত হয়েছে সেদিন তাঁর অবস্থান ছিল সিলেটের সুনামগঞ্জে। তাই কোনো মানুষ যেন অযথা হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য পুলিশ তাঁকে ৫৪ ধারায় কোর্টে প্রেরণ করেছে।
এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী নূর জাহান বেগম বলেন, পুলিশ যা পেয়েছে তা আদালতে বিচারকের কাছে দেবে। জজ সাহেব মনে করলে তাঁকে হত্যা মামলায় জামিন দেবেন। কিন্তু তারা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে হত্যা মামলার আসামিকে হত্যা মামলায় চালান না করে ৫৪ ধারায় চালান করে কিভাবে? তিনি আরও বলেন, আমজাদ যে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে এটা তো এলাকার মানুষ দেখেছে, মামলার সাক্ষীরা দেখেছে।
- বিষয় :
- হত্যা
