ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে ভাঙচুর ৫ কারখানায়

সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে ভাঙচুর  ৫ কারখানায়
×

সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে গতকাল বৃহস্পতিবার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা সমকাল

গাজীপুর প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ২৬ জুন ২০২৬ | ০৯:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে এক সহকর্মীর মৃত্যুর খবরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছেন তৈরি পোশাক শ্রমিকরা। এ সময় সড়ক অবরোধ ও পাঁচটি কারখানায় ভাঙচুর চালান তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পোশাক শ্রমিকরা জানান, টেপিরবাড়ি এলাকায় অবস্থিত কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তার কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু ছুটি না দিয়ে তাঁকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ করানো হয়। এক পর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর এমন মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সহকর্মীদের মধ্যে।

লিজা পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হোগলা গ্রামের বিদ্যুৎ হোসেনের স্ত্রী। শ্রীপুরের আনসার রোড এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন তিনি।
গতকাল সকাল ৮টার দিকে কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড কারখানার সামনে শত শত শ্রমিক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। অতিরিক্ত কর্মঘণ্টা, অসুস্থ শ্রমিককে ছুটি না দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে নামেন তারা। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় বহিরাগত লোকজনও। এক পর্যায়ে মাওনা-বরমী আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করলে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পার্শ্ববর্তী খাদিজা সাদেক স্পিনিং মিলস, এমএইচসি অ্যাপারেলস, লিফগ্রেড লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস লিমিটেড ও সিজি গার্মেন্টসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। তবে কালার অ্যান্ড কোং কারখানায় কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভের খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা ও শিল্প পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বুধবার কর্মরত অবস্থায় লিজা আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ছুটির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তাঁকে ছুটি না দিয়ে রাত পর্যন্ত কাজ করানো হয়। গত বুধবার রাত ১২টার দিকে ডিউটিরত অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সহকর্মীদের ভাষ্য, একই রাতে শোভা নামে আরও এক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আল আমীন হোসেন নামের একজন শ্রমিক বলেন, সকাল ৮টায় কাজ শুরু হলেও অনেক সময় রাত ১২টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। পরদিন আবার সকালেই কাজে যোগ দিতে হয়। আমরা মানুষ, কিন্তু অনেক সময় মনে হয় আমাদের সেই মানুষ হিসেবেও দেখা হয় না। শ্রমিকরা আরও অভিযোগ, কারখানার কিছু কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. বিজন মালাকার বলেন, রাত ২টার দিকে লিজা আক্তার নামের এক শ্রমিককে হাসপাতালে আনা হয়। আগেই তাঁর মৃত্য হয়েছিল। শ্রীপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম সমকালকে বলেন, ওই কারখানার শ্রমিকরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করলেও অন্য কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুর শুরু হয়। পরে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। 
কালার অ্যান্ড কোং কারখানার পরিচালক শহিদুল ইসলাম জানান, কারখানা এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। লিজার পাওনা সঠিকভাবে পরিশোধ করা হবে। কোনো কর্মকর্তার অবহেলা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×