শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে উত্তাল মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়
মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের পাশে স্থানান্তরের দাবিতে গতকাল রোববার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল। ছবি: সমকাল
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ | ০৮:০৫
স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তর, ক্লাস শুরুসহ নানা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুপ্রবি) এবং মেডিকেল কলেজ। জেলা সদরের নিকটবর্তী স্থানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে গণমিছিল, সমাবেশ ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল রোববার সুনামগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা ১১টা থেকে সুনামগঞ্জ শহর ও শহরতলি থেকে বিভিন্ন মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শহরের ঐতিহ্য জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে মিলিত হন। পরে সেখানে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা সিপিবির সাবেক সভাপতি চিত্ত রঞ্জন তালুকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব মুনাজ্জির হোসেন সুজন ও যুগ্ম সদস্য সচিব রাজু আহমেদ।
সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী, সুনামগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল্লাহ হাসান জুনেদ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ মহিবুল ইসলাম, হাওর বাঁচাও আন্দোলনের জেলা সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল, সহসভাপতি ও লেখক সুখেন্দু সেন, শিক্ষাবিদ যোগেশ্বর দাস, জেলা সুজনের সভাপতি নুরুল হক আফিন্দি প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, উচ্চ শিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানটি জেলা সদরের কাছাকাছি স্থাপনের দাবি দীর্ঘ দিনের। বিগত সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ক্ষমতার অপব্যবহার করে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প তাঁর নিজ উপজেলা ও বাড়ির কাছাকাছি শান্তিগঞ্জে নিয়ে যান। এতে জেলা সদরসহ অন্য ১১টি উপজেলাকে চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত বা প্রস্তাবিত দেখার হাওর। হাওরটি জেলার একটি সুবিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ; যা সদর, শান্তিগঞ্জ ও ছাতক উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত। এ হাওর থেকে বিপুল পরিমাণ বোরো ধান ও মিঠা পানির মাছ উৎপাদিত হয়। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশাল ভবন নির্মিত হলে হাওরের পরিবেশ বিনষ্ট হবে এবং কৃষিজ উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যায় এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে। স্মারকলিপি গ্রহণ করে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, দাবি সংবলিত স্মারকলিপিটি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রেরণ করা হবে।
এদিকে ৮ম দিনে পৌঁছেছে মেডিকেল কলেজের শাটডাউন কর্মসূচি। গতকাল রোববার হাসপাতাল চালু, একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত ও পর্যাপ্ত ক্লিনিক্যাল ক্লাসের দাবিতে কলেজের সব একাডেমিক কার্যক্রম কমপ্লিট শাটডাউন এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ব্লকেড (প্রশাসনিক ভবন অবরোধ) কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান ফটকে ‘শাটডাউন’ বোর্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। কর্মসূচি চলাকালে কোনো শিক্ষক বা কর্মচারীকে একাডেমিক ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসীও শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
এ দিকে, টানা আট দিন আন্দোলন চললেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস।
সকালে যথারীতি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া এবং অন্যান্য শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হন। এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চলমান কর্মসূচি বন্ধের অনুরোধ জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বৈঠক হবে। মন্ত্রণালয়ের সচিব তা নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষার্থীরা কবে এবং কতজন বসতে চায় তা জানাতে হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের এ অচলাবস্থা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) কথা বলবেন।
অধ্যক্ষের এ প্রস্তাবের জবাবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, এর আগেও তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বারবার তাদের হতাশ হতে হয়েছে। এবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা আসতে হবে।
কথোপকথন শেষে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাক আহম্মদ ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির প্রতি সম্মান জানিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, সাইদুল ইসলাম সাকিব জানান, অধ্যক্ষ তাদের জানিয়েছেন মঙ্গলবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিজির বৈঠকের কথা। পরে এ বিষয় নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বসতে পারেন। তবে সুস্পষ্ট সমাধান না আসা পর্যন্ত রাজপথের লড়াই চলবে।
- বিষয় :
- সুনামগঞ্জ