ড্রেনের মুখ বন্ধ, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি
দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে যায় বাড়িতে। কালাই পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লা সমকাল
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
দীর্ঘদিনের তীব্র খরা আর বৃষ্টির অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সোমবার সকালে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় নামে স্বস্তির বৃষ্টি। সেই স্বস্তিই মুহূর্তেই পরিণত হয় দুর্ভোগে। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের কাজীপাড়া মহল্লার অন্তত ৩০টি বাড়িতে হাঁটুপানি জমে যায়। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় দুপুর পর্যন্ত ঘরবন্দি হয়ে পড়েন দুই শতাধিক মানুষ। রান্না, চলাচলসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণ এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার কারণেই সামান্য বৃষ্টিতেই এমন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজীপাড়া মহল্লা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষের চলাচল। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক বাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় বাসিন্দারা দীর্ঘ সময় বাইরে বের হতে পারেননি।
মহল্লাবাসীর ভাষ্য, পৌরসভার একটি সরু ড্রেন দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হতো। কয়েক ব্যক্তি নিজেদের জমির ওপর দিয়ে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে দাবি করে সেটির মুখ বন্ধ করে দেন। এরপর থেকেই সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
বাড়িতে পানি ঢুকে পড়া বাসিন্দা রজুফা বেগম বলেন, এটি নতুন সমস্যা নয়। বহুবার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো সমাধান হয়নি। সোমবার ঘরের চুলায় পানি উঠে যাওয়ায় রান্না করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়েছে।
বালা মিয়া বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের মেঝে পানিতে তলিয়ে যায়। ড্রেন বন্ধ থাকলেও সেটি খুলে দেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায় না। ফারজানা নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, শিশুদের স্কুলে পাঠানো যায় না। ঘরের আসবাব ও খাদ্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। দিন দিন এলাকায় বসবাসের পরিবেশ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার না করে স্থানীয় বাসিন্দা ছফির উদ্দিন বলেন, পৌরসভা দুই সীমানার মাঝখানে ড্রেন নির্মাণ না করে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর ড্রেন করেছে। তাই তারা ড্রেনের মুখ বন্ধ করেছেন। তাঁর দাবি, সমস্যার মূল কারণ অপরিকল্পিতভাবে বাড়ি ও ড্রেন নির্মাণ। সঠিক নকশা অনুসরণ করলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না।
কালাই পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, সমস্যাটি নতুন নয়। এর আগেও ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় বাধার কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। সোমবারও জলাবদ্ধতা নিরসনে বন্ধ ড্রেন খুলতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি জানান, বিষয়টি সমাধানে স্থায়ী পরিকল্পনা নেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে সামান্য বৃষ্টিতে বাসিন্দাদের এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়।
- বিষয় :
- বৃষ্টি
