ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ, জুনে রোগী বেড়েছে চার গুণ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ,  জুনে রোগী বেড়েছে চার গুণ
×

 শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্ষা মৌসুম পুরোপুরি শুরুর আগেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের ছয় মাসের মধ্যে জুনের ৩০ দিনেই আক্রান্ত হয়েছে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ। আক্রান্তদের অনেককে ভর্তি হতে হচ্ছে হাসপাতালেও। সবশেষ গতকাল মঙ্গলবার নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ৮ জন।

এই পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে উদ্বিগ্ন বাসিন্দারা। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্য প্রশাসনও। তবে মশার ওষুধ ছিটাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাউকে দেখা না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে নগরবাসীর। স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা বলছেন, সঠিক সময়ে মশা মারতে না পারলে আক্রান্তের হার নিয়ন্ত্রণ করাও কঠিন হবে। 

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, সদ্য শেষ হওয়া জুনের ৩০ দিনে রেকর্ড ১২২ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এটা গত পাঁচ মাসের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি। এর মধ্যে মে মাসে মাত্র ৩৭ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মার্চে ২০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন এবং জানুয়ারিতে আক্রান্ত হয়েছিল ৬৮ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ২৯৮ জন। মৃত্যু হয়েছে একজনের। হাসপাতালে ভর্তি আছে ৩৬ জন। 
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখনও পুরোপুরি বর্ষা মৌসুম শুরু হয়নি, শিগগিরই প্রতিরোধ ব্যবস্থা করতে না পারলে আক্রান্তের হার আরও বাড়বে।’
হাসপাতালে ভর্তি হওয়া লোকমান বলেন, ‘প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হই। এরপর দেখি শরীরে ব্যথা। স্থানীয় চিকিৎসককে দেখিয়ে ওষুধ খেয়েও ভালো হইনি। পরে পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ আসে।’ 
চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী বলেন, ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন রোগী ভর্তি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, ব্যথা, বমির মতো সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে। কয়েকজনের খাবারে অরুচিও দেখা দিচ্ছে। ডেঙ্গুর এই মৌসুমে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘শহরে তিন চাকার সিএনজির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম চালু হয়েছে। করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মোবাইল আউটরিচ কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাস ধরে এই উদ্যোগটি নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা পৌঁছে দেবে।’

আরও পড়ুন

×