বিএনপির হামলায় আ. লীগ নেতার মৃত্যুর অভিযোগ
নাটোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
নলডাঙ্গায় আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান (৫৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। স্বজনদের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার রাতে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তবে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় আহত হওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিএনপি।
হামিদুর রহমান নলডাঙ্গা উপজেলার কালীগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কালীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং নলডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
স্বজনরা জানান, গত ৩ জুন সকালে রায়সিংহপুর বাজারে হামিদুর রহমানের ওপর একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শে তিনি বাড়িতে ফিরে আসেন। এরপর বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল। দুই দিন আগে থেকে তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
নিহতের ছেলে রাফিউর রহমান মাহির দাবি, হামলার সময় শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পাওয়ার কারণে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, গত ৩ জুন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে হামিদুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তাঁর দুই পা ভেঙে যায় এবং তিনি চলাফেরার সক্ষমতা হারান। গুরুতর আহত অবস্থায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বিএনপি কখনও এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’
নলডাঙ্গা থানার ওসি নূরে আলম বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতেই নিহতের বাড়িতে গিয়েছি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
- বিষয় :
- মৃত্যু
