সাতকানিয়ায় আ.লীগ সমর্থককে গুলি
সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৪২
| প্রিন্ট সংস্করণ
আগের বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক সমর্থককে গুলি ও কুপিয়ে জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। তাঁর নাম এনায়েত আলী ফকির (৪০)। গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এ হামলায় জড়িত সন্দেহে রায়হান রনি নামের একজনকে আটক ও একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এনায়েত আলী ফকির তাঁর পাশের বাড়ির এক মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। বাড়িতে ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
গতকাল মঙ্গলবার দেড়টার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে এনায়েত আলী বলেন, স্থানীয় জিহান, কামরুল ও ছাবেরের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল আগে থেকেই তাঁর বাড়ির কাছে ওত পেতে ছিল। তাঁর পথরোধ করে হাত ও পায়ে ছররা গুলি করা হয়। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ধারালো অস্ত্র, রড ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে রাস্তার পাশের ডোবায় ফেলে দেয় দুর্বৃত্তরা। তাঁর চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে আসতে দেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এনায়েত আলী আরও বলেন, ‘আমি সরাসরি কোনো দল করি না, তবে আওয়ামী লীগ সমর্থন করি। হামলাকারীরা সবাই আমার এলাকার। তারা এর আগে আমার ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। এ কারণে এলাকার একটি মারামারির ঘটনার আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছিল। আমি কিছুদিন কারাগারে ছিলাম। সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পেয়েছি।’
এনায়েত আলী দুপুর পর্যন্ত চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে এনায়েত আলীল স্ত্রী জিন্নাত আরা বেগম বলেন, তাঁর স্বামীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আমিলাইশ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্যানেল চেয়ারম্যান আজিজুল্লাহ লিমন বলেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আমরা আহতের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছি। পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাতকানিয়া থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।
- বিষয় :
- গুলি
