ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

নিরাপত্তার খোঁজে গ্রামে এসেও রক্ষা পায়নি শিশুটি

নিরাপত্তার খোঁজে গ্রামে এসেও রক্ষা পায়নি শিশুটি
×

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকায় একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আতঙ্কিত পোশাকশ্রমিক বাবা-মা সন্তানকে একটু নিরাপদে রাখতে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, গ্রামে অন্তত শান্তিতে থাকবে 
১০ বছরের মেয়েটি। নিরাপত্তার খোঁজে গ্রামে এসেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা মেলেনি। খোদ সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকের এক স্বাস্থ্য সহকারী তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। 
মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁর আত্রাইয়ে বারুণীতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে। সেখানে ১০ বছরের ওই শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী (সিএইচসিপি) আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় বুধবার রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

এদিকে, এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্লিনিকের সামনে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গলা ব্যথার ওষুধ নেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বারুণীতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে যায় ওই শিশু। সঙ্গে তার ৪ বছর বয়সী আরেকটি ছোট শিশু ছিল। ক্লিনিকে তখন অন্য কোনো লোক না থাকার সুযোগে স্বাস্থ্য সহকারী আতিকুর রহমান সুজা শিশুটিকে রুমের ভেতর ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।

শারীরিক আর কোনো সমস্যা আছে কিনা, তা পরীক্ষা করার বাহানায় সুজা শিশুর শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় এবং কাপড় খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় রুমের বাইরে থাকা ছোট শিশুটি চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
ঘটনা জানতে পেরে ঢাকা থেকে শিশুর বাবা দ্রুত গ্রামের বাড়িতে আসেন এবং বুধবার রাতে আত্রাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আত্রাই থানা পুলিশ বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার সুজা আত্রাই উপজেলার মহাদিঘী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক ওরফে চাঁনের ছেলে।

শিশুর দাদা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিশুর বাবা-মা ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় পড়ত এবং বাবা-মা কাজে গেলে বাসায় একাই থাকত। সম্প্রতি ঢাকায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যার আলোচিত ঘটনাগুলোতে উদ্বিগ্ন হয়ে, সন্তানকে নিরাপদে রাখতে গত ঈদুল আজহায় তাকে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গ্রামে এসেও তাকে একই রকম নৃশংস ঘটনার শিকার হতে হলো। তিনি এই ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেছেন।
আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে তার বাবা বাদী হয়ে বুধবার রাতে মামলা করেছিলেন। মামলার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর বাগমারা থেকে আসামি আতিকুর রহমান সুজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

×