ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিকে বাঁচানো গেল না

পাহাড় থেকে পড়ে আহত হাতিকে বাঁচানো গেল না
×

টেকনাফের বরইতলী এলাকায় চিকিৎসাধীন হাতিটি রোববার মারা যায়। ছবি: সমকাল

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১০:৪২

কক্সবাজারের টেকনাফে একটি পাহাড়ের ওপর থেকে গত শনিবার নিচে গড়িয়ে পড়ে আহত হয় একটি বন্য হাতি। প্রায় ৩০০ ফুট নিচে গড়িয়ে পড়ার সময় বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাতিটির পেছনের দুই পা ভেঙে যায়, গুরুতর ক্ষত হয় পেটে।

বিষয়টি অবগত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও। খবর পেয়ে হাতিটির দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। বন বিভাগ, টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং দুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে হাতিটির চিকিৎসা শুরু হয়। তবে সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে গতকাল রোববার মারা যায় হাতিটি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরখানেকের মতো পাল থেকে বিচ্ছিন্ন হাতিটিকে একাই পাহাড়ি এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছিল। এ সময়ের মধ্যে হাতিটি কাউকে আক্রমণও করেনি। স্থানীয় নুর আলম বলেন, হাতিটির মৃত্যুর খবর শুনে খুব খারাপ লেগেছে। আরও দ্রুত উদ্যোগ নিলে হয়তো প্রাণীটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো।

ওই এলাকায় দায়িত্বরত একজন বিজিবি সদস্য জানান, সপ্তাহখানেক আগেও বিপদে পড়েছিল হাতিটি। টেকনাফের বরইতলী এলাকার একটি পাহাড়ের মাঝপথে তাকে আটকা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিজিবি সদস্য জানান, সে সময় বন বিভাগের হটলাইন ও চট্টগ্রাম বন বিভাগের একাধিক নম্বরে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। তখন থেকেই হাতিটি অসুস্থ এবং দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে গত শনিবার আরেকটি পাহাড় থেকে পড়ে সে আহত হয়। ওই বিজিবি সদস্য বলেন, তখন যদি হাতিটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া যেত, তাহলে হয়তো আজ হাতিটি জীবিত থাকত।

হাতিটির আঘাত অত্যন্ত গুরুতর ছিল বলে জানিয়েছেন দুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান।

এ বিষয়ে টেকনাফ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, হাতিটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হবে। তবে সম্প্রতি বরইতলীতে আটকা পড়া হাতি এটি নয়।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, ধারণা করছি, হাতিটি আগে থেকেই দুর্বল বা অসুস্থ ছিল। তবে এটি যে আগেও পাহাড়ের মাঝপথে আটকা পড়েছিল, তা আমি জানতাম না। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।

আরও পড়ুন

×