শেরপুরে পাঁচ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, বেড়েছে লাকড়ির চাহিদা
ফাইল ছবি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৮
শেরপুরে ৫ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ। এতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ৪ হাজারের অধিক গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গ্যাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কলকারখানার শ্রমিক এবং জেলার প্রায় ৬ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকের উপার্জন বন্ধ হওয়ার পথে।
শেরপুরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির আবাসিক গ্রাহক রয়েছে চার হাজারের অধিক। এছাড়া ২১ বাণিজ্যিক, দুটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ও জেলা সদর হাসপাতালে গ্যাস সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি।
গত ১২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গ্যাস বন্ধের কোনো আগাম তথ্য না থাকায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন গৃহিণীরা। জেলা শহরের তেরাবাজার মহল্লার বাসিন্দা প্রভাষক মলয় চাকীর স্ত্রী নিপা চাকীর ভাষ্য, হঠাৎ করে গ্যাস না থাকায় ভীষণ সমস্যায় পড়েছেন তারা। গ্যাস পাবেন এমন আশায় থেকে দুই দিন হোটেল থেকে খাবার কিনে খেয়েছেন। সেখানেও খাবার না পাওয়ায় তিনদিন ধরে কোনোরকমে ডাল ও আলু সিদ্ধ করে দুপুরের খাবার চালিয়ে নিচ্ছেন। মলয় চাকী বলেন, ‘সকালে ও রাতে একটি মিষ্টির দোকান থেকে রুটি এনে খাচ্ছি। সেখানেও লাইন দিতে হয়।’
গোপালবাড়ী মহল্লার বাসিন্দা মিনা বিশ্বাস জানান, গ্যাস না থাকায় লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। এতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
রঘুনাথ বাজার নিউমার্কেট এলাকার অনুরাধা মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক বাপ্পি দে বলেন, কয়েকদিন ধরে চাহিদার অর্ধেক মিষ্টি তৈরি হচ্ছে লাকড়ির আগুনে। ঝুঁকি নিয়ে মিষ্টি তৈরি করে কোনো রকমে ব্যবসা রক্ষা করতে হচ্ছে।
গোয়ালপট্টি এলাকার দুর্গাচরণ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক অরুন ঘোষের ভাষ্য, মিষ্টির করিগররা গ্যাসের আগুনে মিষ্টি তৈরি করে অভ্যস্ত। এখন লাকড়ি দিয়ে তারা মিষ্টি তৈরি করতে চান না। কারণ এতে তাপের তারতম্য হয়ে মিষ্টির স্বাদ নষ্ট হয়। তবুও ব্যবসা ধরে রাখার স্বার্থে অধিক দামের লাকড়ি ব্যবহার করতে হচ্ছে।
খোয়ারপাড় সিএনজিস্ট্যান্ডে গিয়ে কথা হয় শ্রীবরদী কুরুয়া গ্রামের অটোরিকশা চালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, শেরপুরের ৫ উপজেলা ও পাশের জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ, কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার ৬ হাজার অটোরিকশা চলে শেরপুরের ওপর দিয়ে। ৫ দিন ধরে গ্যাস না পেয়ে হাজারো চালক বেকার বসে আছেন। তারা দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। গাড়ি বন্ধ থাকায় তাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।
এই অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছেন কতিপয় অটোরিকশা চালক। এতে একদিকে যাত্রীদের বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন যাত্রীরা।
ঝিনাইগাতী উপজেলার সারিকালিনগরের বাসিন্দা সাহাজ উদ্দিন বলেন, শেরপুর থেকে ঝিনাইগাতীর দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এলপি গ্যাসের গাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে ৭০ টাকা ভাড়া দিয়ে যাচ্ছেন গন্তব্যে। তার অসহায় প্রশ্ন– কিভাবে মানুষ বাঁচবে?
নবীনগর তাজ ফিলিংস্টেশনের ব্যবস্থাপক শহিদুল ইসলামের ভাষ্য, ৫ দিন ধরে তাদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, প্রতিদিন ৭০০-৮০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গ্যাস সরবরাহ করেন তারা। এখন গ্যাস না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন চালকরা। জীবিকার তাগিদে অনেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন।
শেরপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সিলিন্ডার গ্যাসে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালানো হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির শেরপুরের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. বদরুজ্জামানের সঙ্গে। তার ভাষ্য, গত ১২ আগস্ট রাত ১০টার দিকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় রয়েছেন তারা। মানুষের ভোগান্তি মানে তাদেরও ভোগান্তি। তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের চাপ সামাল দেওয়া সত্যিই কঠিন। ১০জনকে বোঝাতে পারছি। কিন্তু দুই-একজন অকথ্য ভাষা ব্যবহার করছে। কিছুই বলার নেই।’
কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের বলা হয়েছে ৫-৭ দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। তবে কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
- বিষয় :
- শেরপুর
- গ্যাস সংকট