৩৫ বছর পর উদ্ধার কমর বেগমের পালঙ্ক
ছবি: সমকাল
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৫৩
রাজশাহীর পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ রাজা নরেশ নারায়ণের স্ত্রী কমর বেগমের ব্যবহৃত একটি পালঙ্ক ৩৫ বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে পুঠিয়ার মাছচাষি ইকবালুর বাশার খান ইলুর বাড়ি থেকে পালঙ্কটি উদ্ধার করে উপজেলা প্রশাসন।
পুঠিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমানের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে পালঙ্কটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় রাজবাড়ির আরও কয়েকটি পুরোনো নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, কমর বেগমের পালঙ্ক নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের নজরে আসে। পরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে পালঙ্কটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইকবালুর বাশার খান ইলুর বাড়ি থেকে কমর বেগমের ব্যবহৃত পালঙ্ক উদ্ধারের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী ইয়াকুব স্বর্ণকারের বাড়ি থেকে রাজবাড়ির আরও একটি পুরোনো খাট ও একটি ড্রেসিং টেবিলের অংশবিশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ভোলানাথ দত্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি ঝাড়বাতি।
ইউএনও লিয়াকত সালমান বলেন, উদ্ধার করা ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো পুঠিয়া রাজবাড়ীর জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। সেখানে দর্শনার্থীদের দেখার সুযোগ করে দেওয়া হবে।
১৯৯১ সালে কেনা হয়েছিল পালঙ্কটি
ইকবালুর বাশার খান ইলুর দাবি, মামলা-মোকদ্দমার কারণে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন কমর বেগমের মেয়ে রেজিনা জামাল। ১৯৯১ সালের দিকে তিনি ১০ হাজার টাকায় পালঙ্কটি তার কাছে বিক্রি করেন।
ইলুর ভাষ্য, তার বাবা আব্দুর রহমান খান পেশায় স্কুলশিক্ষক ছিলেন। তিন মাসের বেতন জমিয়ে তিনি পালঙ্কটি কিনেছিলেন। পরে দীর্ঘদিন ধরে ওই পালঙ্কে ঘুমিয়েছেন ইলু।
পুঠিয়ার চারআনি রাজবংশের শেষ পুরুষ রাজা নরেশ নারায়ণ নাটোরের রাজা জিতেন্দ্র নাথের দ্বিতীয় কন্যা সুরেশ্বরীকে বিয়ে করেছিলেন। তাদের কোনো ছেলে ছিল না। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনা ও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত কথিত তথ্য অনুযায়ী, সুরেশ্বরীর সঙ্গে নরেশ নারায়ণের সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণে নরেশ নারায়ণ প্রায়ই কলকাতায় যেতেন।
সেখানেই মুসলিম নারী কমর বেগমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে নরেশ নারায়ণ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কমর বেগমকে বিয়ে করেছিলেন- এমন কথাও প্রচলিত আছে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রানি সুরেশ্বরী বিষ প্রয়োগ করে নরেশ নারায়ণকে হত্যা করেছিলেন- এমন একটি জনশ্রুতিও রয়েছে। তবে এসব ঘটনার ঐতিহাসিক সত্যতা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
নরেশ নারায়ণের মৃত্যুর খবর পেয়ে কমর বেগম কলকাতা থেকে পুঠিয়ায় চলে আসেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে। পরে তিনি রাজপরিবারের দায়িত্ব নেন। পুঠিয়ার চারআনি রাজবাড়িতে দীর্ঘদিন বসবাসের পর ১৯৮৭ সালে তার মৃত্যু হয়।