ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাঁদপুরে আদালত বর্জন অব্যাহত আইনজীবী ছাড়াই চলছে বিচার

চাঁদপুরে আদালত বর্জন অব্যাহত আইনজীবী ছাড়াই চলছে বিচার
×

 চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের তিন বিচারকের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে আদালত বর্জন অব্যহত রেখেছেন আইনজীবীরা। গত বুধবার দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে জরুরি সভার সিদ্ধান্ত থেকে গতকাল বৃহস্পতিবারও সরে আসেননি তারা।
আইনজীবীদের ছাড়া বিচার কাজ অব্যাহত রেখেছেন ওই বিচারকরা। বাদী ও বিবাদী নিজেরা শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন স্বপন। তিনি জানান, ওই বিচারকরা যথাসময়ে আদালতের এজলাসে যান এবং ৭টি মামলার শুনানি সম্পন্ন করেন। আইনজীবীদের আদালত বর্জন অব্যাহত থাকায় বিচার প্রার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম মন্টু জানান, আইনজীবীরা আদালত বর্জনে অনড়। বিষয়গুলো সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় তাদের কয়েকজনকে জেলা ও দায়রা জজ তাঁর চেম্বারে ডাকেন। তিনি বর্জন কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে বলেন। কিন্তু অভিযোগগুলোর সুরাহা বা কোনো আশ্বাস দেননি। তাঁকে জানিয়ে এসেছেন যতক্ষণ পর্যন্ত এগুলোর সুরাহা না হবে ততক্ষণে বর্জন চলবে।
গত বুধবার আইনজীবী সমিতির জরুরি সাধারণ সভা হয়। সেখানে চাঁদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ১-এর বিচারক পলাশ বর্ধন ও সদর সিনিয়র সহকারী জজ শম্পা ইসলামের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালতগুলো বর্জনের ঘোষণা দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম মন্টু।
ওই সভায় আইনজীবী নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন বিচারপ্রার্থীদের সেবা দিতে গিয়ে আইনজীবীরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

সভায় সমিতির নেতারা সিদ্ধান্ত দেন, আগামী সাত দিন আদালত পুলিশ পরিদর্শকের দপ্তর থেকে মামলার কপি সংগ্রহের জন্য তারা কোনো টাকা দেবেন না। তারা অভিযোগ করেন, আদালতের পেশকারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্নভাবে আইনজীবীদের দীর্ঘদিন ধরে অসম্মানিত করে আসছেন।
সভায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম মন্টু বলেন, স্থানীয়ভাবে সমস্যার সমাধান না হলে লিখিতভাবে বার কাউন্সিলে জানাবেন। সমিতির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো আইনজীবী কাজ করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেসব বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন আইনজীবীদের সমন্বয়হীনতা চলছে বলে উল্লেখ করেন শামছুল ইসলাম মন্টু। তিনি বলেন, বিষয়গুলো নিয়ে আইনজীবী সমিতির নেতারা তাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং নিজেদের মতো করে তারা বিচারকাজ পরিচালনা করায় আইনজীবীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ কারণে সমিতি আদালত বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
ওই সভা সঞ্চালনা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার ফয়সাল। আরও বক্তব্য দেন পিপি কোহিনুর রশিদ, জিপি এজেএম রফিকুল হাসান রিপন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি কোহিনুর বেগম, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ইকবাল বিন বাশার, আইনজীবী সেলিম আকবর, আহছান হাবীব, একিউএম মোস্তফা কামাল, আবুল খায়ের মো. সালেহ, সাবেক পিপি আমান উল্যাহ প্রমুখ।

ওই দিন তিন বিচারকের আদালত বর্জনের বিষয়ে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামিন আবেদনে সভাপতি-সেক্রেটারি ও পিপিকে আগেই জানানো এবং সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের একটি নিষেধাজ্ঞা শুনানিতে আইনজীবী নেতাদের ‘বেআইনি আবদার’ রক্ষা না করায় তিনটি আদালত বর্জন করা হয়েছে। আদালতের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে মূল ঘটনা আড়াল করতে আইনজীবী নেতারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আদালতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদ জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শামছুল ইসলাম মন্টু। আইনজীবী সমিতির পক্ষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, আদালতের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মনগড়া এবং নিজের অপকর্ম অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার শামিল। সত্য ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা মাত্র। তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য বিচারকের কাছে কোনো ধরনের অন্যায় আবদার করেনি।

আরও পড়ুন

×