ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু নির্যাতন করার অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ

পুলিশ হেফাজতে নারীর মৃত্যু নির্যাতন করার অভিযোগ
×

 বাকেরগঞ্জ (বরিশাল) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে নাদিয়া বেগম নামে এক গৃহবধূকে আটকের পর পুলিশ হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর স্বামীর অভিযোগ, নাদিয়াকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নাদিয়া (৩৮) উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হক মন্টু গাজীর স্ত্রী। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নাদিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরদিন বুধবার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। 

পুলিশ বলছে, বুধবার বিকেলে বরিশাল কারাগারে পাঠানোর সময় নাদিয়া হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। 
নাদিয়ার আড়াই বছরের একটি কন্যা ও ১১ বছরের এক ছেলে শিশু রয়েছে। নাদিয়ার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর মরদেহ দাফন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে নাদিয়াকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হয়। আগের দিন সোমবার সকালে নাদিয়ার ছেলেকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশ। তবে পরদিন তাকে ছেড়ে দেয়। 

নাদিয়াকে আটকের বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও ‘মাদক বিক্রির’ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। 

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ সমকালকে বলেন, এক সপ্তাহ ধরে বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এর অংশ হিসেবে নাদিয়াকে আটক করা হয়। পরদিন জেলহাজতে পাঠানোর আগে নাদিয়া অসুস্থ হয়ে মারা যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আটকের সময় নাদিয়ার সঙ্গে থাকা ইয়াবা বড়ি গিলে ফেলেছেন। এ কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। 
জানতে চাইলে নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজী বলেন, তাঁর স্ত্রী মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন। শত্রুতা করে কেউ তাদের সম্পর্কে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকতে পারে। পুলিশের ভাষ্যেই তো গরমিল আছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের সময় নাদিয়ার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তাহলে সে ইয়াবা কোথায় পেল? 
মন্টু গাজী আরও বলেন, থানায় নিয়ে তাঁর স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ। এ কারণেই ইয়াবা গিলে ফেলার কথা বলছে বলে তাঁর ধারণা। 
নাদিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, পুলিশ হেফাজতে নাদিয়ার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন হয়েছিল কিনা তদন্ত করা হচ্ছে। তা ছাড়া ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নাদিয়ার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। 

আরও পড়ুন

×