ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল শিক্ষার্থীরা

‘হুমকিধমকির রাজনীতি আর এই বাংলায় হবে না’

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ‘হাইওয়ে’র গানে মাতল শিক্ষার্থীরা
×

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫৩

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তিতে সৃষ্ট বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। নবীনবরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘হাইওয়ে’ সংগীত পরিবেশন করে। হাসান ইথারের গানে উচ্ছ্বাসে মাতেন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এই নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। 

দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষ এ. কে. এম. ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদ হোসেন বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের শিক্ষা দিয়েছে যে কথা বলার রাজনীতি, স্লোগানের রাজনীতি কিংবা হুমকিধমকির রাজনীতি আর এই বাংলায় হবে না। বাংলাদেশে শুধু জাতীয় রাজনীতি না, ছাত্র রাজনীতি করতে গেলেও সহনশীলতার প্রকাশ থাকতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের হৃদয়ের স্পন্দন বুঝতে হবে। তাদের আচার-আচরণ বুঝতে হবে। তাদের চাহিদা বুঝতে হবে। সেই অনুয়ায়ী আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি করতে হবে।’ 

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ শুরু হয়। এরপর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে নবীনবরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান বদল করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী মূল ক্যাম্পাস-সংলগ্ন মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি প্রমুখ। 

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘আজকে যারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের ছাত্রদল করছো, তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে ছাত্র রাজনীতি করবে।’ তিনি বলেন, বর্তমানে সমাজে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে মাদক। এই মাদককে তোমরাই নির্মূল করতে পারবে। তোমাদের সহপাঠীসহ সমাজে যারা আছে, তাদের সঠিক পথে নিয়ে আসবে।’ 

প্রধান অতিথি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মেয়েদের উচ্চশিক্ষার হার বাড়ুক। মেয়েদের জন্য একটি হোস্টেল নির্মাণ করার চেষ্টা করব। সরকারি কলেজে একটি আধুনিক গেট নির্মাণের চেষ্টা করব।’

নবীনবরণ শেষে অতিথিরা কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন। পরে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেন।

বিকেলে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ঢাকার সংগীত ব্যান্ড দল হাইওয়ের পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মাতেন শিক্ষার্থীরা। কানায় কানায় পূর্ণ ছিল দক্ষিণ ক্যাম্পাস। গানের তালে তালে নেচেগেয়ে শিক্ষার্থীরা সংগীতানুষ্ঠান উপভোগ করেন। শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নয়, জেলা শহরের স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হাজারো শিক্ষার্থী সংগীত উপভোগের জন্য দক্ষিণ ক্যাম্পাসে ভিড় করে। বিকেল সাড়ে ৫টায় সংগীতানুষ্ঠান শেষ হয়।

আরও পড়ুন

×