ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুরে নতুন দুটি গ্যাস কূপ খননের প্রস্তুতি 

জামালপুরে নতুন দুটি গ্যাস কূপ খননের প্রস্তুতি 
×
×

ছবি-সংগৃহীত

জামালপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৩৮ | আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ১৪:৩৮

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দেশের ৩০তম গ্যাসক্ষেত্র জামালপুর-১ এর কূপ খননকাজ শেষ হয়েছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন পাওয়া
যাবে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। পাশাপাশি এলাকায় সন্ধান মিলেছে আরও দুটি গ্যাস খনির। এ দুটি খনি থেকে গ্যাস উত্তোলনে কূপ খননের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। নতুন দুটি কূপে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন সম্ভাবনা

যাচাইয়ের পর একই সঙ্গে তিন কূপের গ্যাস উত্তোলন ও জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

বাপেক্স সূত্র জানায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের তারতাপাড়ায় ১৯৮০ সালে সিসমিক জরিপের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সিসমিক উপাত্ত এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ক্লোজ গ্রিড সিসমিক সার্ভে করা হয়। ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ খননের কাজ শুরু করে বাপেক্স। কূপটির খননকাজ শেষ হওয়ার পর ওই বছরের ১ জুন সেখানে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত হয়।

বাপেক্সের তথ্যমতে, প্রায় ৬ একর জমির ওপর জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপটির অবস্থান। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রথম কূপে গ্যাস পাওয়ার পর পাশাপাশি এলাকায় আরও দুটি গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাসের মজুত প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গ্যাসক্ষেত্র দুটি হচ্ছে মাদারগঞ্জ উপজেলার গুনারিতলা ইউনিয়নের সিংদহ এলাকায় জামালপুর-২, অপরটি চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্বইচরে জামালপুর নর্থ-১।
এই গ্যাসক্ষেত্র দুটির অনুসন্ধান ও উন্নয়নমূলক কূপ খননের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটি কূপের খননকাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের মজুত ও উৎপাদন সম্ভাবনা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রাপ্ত গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহের বিষয়ে প্রকল্প প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। এর আগে গ্যাস সরবরাহের জন্য মাদারগঞ্জের তারতাপাড়ায় স্থাপিত জামালপুর-১ গ্যাস কূপ থেকে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দি যমুনা সার কারখানা পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করতে হবে।

জামালপুর গ্যাস কূপ-১ এর ইনচার্জ বায়োজিত হোসেন জানান, ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা প্রথম কূপে ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত হয়েছে। সেখানে ৭ দশমিক ২২ বিসিএফ গ্যাস পাওয়া গেছে। প্রাথমিক হিসাবে, ওই কূপ থেকে দৈনিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা যাবে। 

বাপেক্সের জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এ কূপের পাশের দুই এলাকায় আরও দুটি কূপে গ্যাসের উপস্থিতি ও মজুত প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে নতুন ওই কূপ দুটি খননের জন্য সিভিল ওয়ার্ক শুরু হয়েছে। প্রতিটি কূপ ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে।

নোয়াখালীতে নতুন কূপে গ্যাসের সন্ধান

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন-কাম উন্নয়ন কূপে গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বাপেক্স গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে। এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই কূপটির খননকাজ শুরু করেছিল বাপেক্স। আধুনিক ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভূগর্ভের এক হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়। এরই মধ্যে এক হাজার ৪২০ থেকে এক হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে সম্ভাবনাময় গ্যাসের স্তরের সন্ধান মিলেছে।

সুন্দলপুর-৪ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। আগামী দুই থেকে তিন দিন এ পরীক্ষা চলবে। পরীক্ষা শেষ হলে কূপটিতে মোট গ্যাসের সুনির্দিষ্ট মজুত ও দৈনিক উত্তোলনযোগ্য চূড়ান্ত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×