‘ভুল’ চিকিৎসায় রোগীর দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কা
প্রতীকী ছবি
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৫৩
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে সাকোয়াত হোসেন নামে এক রোগীর চোখে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী সাকোয়াতের স্ত্রী পঞ্চমালার দাবি, তাঁর স্বামীর চোখ লাল হওয়ায় গত ২৬ সেপ্টেম্বর চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকে যান তিনি। সেখানকার স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগমের কাছে তাঁর স্বামীর চোখের সমস্যার বিবরণ দেন। সব শুনে ওই স্বাস্থ্যকর্মী তাঁর হাতে ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামে একটি ড্রপ তুলে দেন।
বাড়িতে গিয়ে ড্রপটি তাঁর স্বামীকে ব্যবহারের জন্য দেন। পরে তাঁর স্বামী সাকোয়াত হোসেন ড্রপটি চোখে ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। পরে ক্রমেই চোখ সাদা হয়ে ঝাপসা দেখতে শুরু করেন। এই অবস্থায় তাঁকে জামালপুর চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু অর্থের অভাবে তাঁকে ঢাকায় নিতে পারছেন না তাঁর পরিবার। ক্রমেই তাঁর চোখের অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে।
পঞ্চমালা বলেন, বিষয়টি জানালে ভুল ওষুধ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন টেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগম। এ সময় ‘ক্লোরাফিলিন’ নামে আরেকটি ড্রপ দেন তাঁকে। বর্তমানে তাঁর স্বামীর চোখের অবস্থা খারাপ। কিন্তু টাকার অভাবে তাঁকে ঢাকার ভালো চক্ষু হাসপাতালে নিতে পারছেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেংটিমারী কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী বানেছা বেগম। তিনি বলেন, ‘সাকোয়াত হোসেন ক্লিনিকে আসেননি। তাঁর স্ত্রী এসে স্বামীর চোখের অসুখের বিবরণ জানালে তাঁকে সঠিক ওষুধ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পায়ের কড়া ও কুনিতে ব্যবহারে জন্য তাঁকে ‘জেনশন ভায়োলেট’ নামে একটি ড্রপও দেওয়া হয়েছিল। ভুল করে ব্যবহারের জন্য এমন হয়েছে। তিনি কোনো ভুল ওষুধ রোগীকে দেন নাই।’ এই স্বাস্থ্যকর্মী চোখ ও পায়ের কড়া-কুনির জন্য আলাদা আলাদা ড্রপ দেওয়ার দাবি করলেও অভিযোগকারী পঞ্চমালার দাবি, তাঁকে শুধু একটি ড্রপ দেওয়া হয়েছিল।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসান হাবীবের ভাষ্য, ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ক্লিনিকে রোগী আসেননি, বিবরণ শুনে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি আইনসঙ্গত নয়।
- বিষয় :
- জামালপুর