ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ড

নিহত ৭ জনকে চোখের পানিতে শেষ বিদায়

নিহত ৭ জনকে চোখের পানিতে শেষ বিদায়
×
×

ছবি: সমকাল

নওগাঁ প্রতিনিধি ও নাটোর সংবাদদাতা

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০০:২১

সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার পৌনে ৩ মাস পর নওগাঁর পাঁচ ও নাটোরের দুজনসহ মোট সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ শনিবার বিকেলে মরদেহগুলো গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। চোখের পানিতে তাদের শেষ বিদায় জানান পরিবারের সদস্যরা।

এর আগে সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মরদেহগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। পরে সেখানেই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৬ জন বাংলাদেশি নিহত হন। তাদের মধ্যে ১২ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলায়। তিনজনের বাড়ি নাটোর ও একজনের রাজশাহী জেলায়। ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় সাতজনের মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হলেও আগুনে পুড়ে চেহারা বিকৃত হয়ে যাওয়ায় বাকিদের পরিচয় নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। ডিএনএ পরীক্ষার পর নিশ্চিত হয়ে বাকিদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। শনিবার সন্ধ্যায় নিজ নিজ গ্রামে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

নওগাঁর পাঁচজন হলেন- পৌরসভার পার-নওগাঁ এলাকার শাহিন এবং আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার সজিব এবং সাধনগর গ্রামের সাগর আলী। 

নাটোরের দুজন হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার দিঘীরপাড়া গ্রামের শামীম হোসেন ও খাজুরা গ্রামের সাব্বির হোসেন।

পার নওগাঁর শাহিনের মা নার্গিস বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘এনজিও থ্যাকে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ করে ছাওয়ালটাকে বিদেশ পাঠাইছিলাম। আগুনে হামার সব শ্যাষ হয়ে গেল। শাহিনের ছোট ছোট দুইটা ছাওয়াল, ওগুলা এখন কী খাইবে? আর এতগুলা টাকা ঋণ আমরা কীভাবে শোধ করমু?’

আত্রাইয়ের মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজের মা পারুল বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলে বলত, আম্মু কারখানায় কাজ পেয়েছি, দুই বছর পর বাড়ি আসব। আজ ছেলে ফিরে এলো, কিন্তু নিথর দেহে।’

ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মাসিদুলের বৃদ্ধ বাবা মজনু সরদার বলেন, ‘এই বয়সে এসে নিজের হাতে ছেলের কফিন নামাতে হলো। এই শোক সহ্যের ক্ষমতা আমার নেই।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারগুলোকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।

নাটোরের দুজনের দাফন সম্পন্ন
নলডাঙ্গা উপজেলার শামীম হোসেন ও সাব্বির হোসেনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকেল ৩টার দিকে মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে এসে পৌঁছে। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে এলাকা। শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

শামীমের বাবা জাকির হোসেন বলেন, ‘ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ঋণ-ধার করে, এমনকি জমিজমা বিক্রি করে সন্তানদের সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে যাওয়া সেই মানুষ ফিরেছেন নিথর দেহে। দীর্ঘশ্বাস আর কান্না ছাড়া এখন আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

সাব্বিরের পরিবারের অভিযোগ, সরকারি পর্যায় থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা পাওয়া ছাড়া পরবর্তীতে আর কেউ তাদের খোঁজখবর নেননি। জনপ্রতিনিধিরাও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেননি।

খাজুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, বাদ আছর জানাজা শেষে দুজনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শামীম হোসেন দিঘীরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে এবং সাব্বির হোসেন খাজুরা গ্রামের শ্রীপুরপাড়ার গোলাম রাব্বানির ছেলে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তার জানান, পরিবারগুলোর সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করছেন।

আরও পড়ুন

×