ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় টেকনাফের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া কারাগারে

দুর্নীতির মামলায় টেকনাফের বিতর্কিত ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া কারাগারে
×
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ২১:১৫

দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কক্সবাজারের টেকনাফের বিতর্কিত ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান ওরফে ইয়াহিয়াকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এ নির্দেশ দেন। 

এর আগে, ১৩ অক্টোবর একই আদালত তাকে কারাদণ্ড ও ১২ কোটি ৫৫ লাখ এক হাজার ৩৫৩ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার দিন আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দুদক আইনজীবী পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের বৈধ উৎস প্রদর্শন করতে না পারায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ২৭(১) ধারায় আদালত আসামি আনিসুর রহমান ইয়াহিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেন। রায়ের দিন অনুপস্থিত থাকায় সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়। 

আজ রোববার তিনি সেই মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত। ইয়াহিয়া কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার মৃত হাজি নবী হোসেনের ছেলে।

২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানায় ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক (সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২)। সংস্থাটির তৎকালীন সহকারী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০০৯ সালের ১৭ আগস্ট আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেন। ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। ১৩ জনের সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন। 

দুদকের অনুসন্ধান ও গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের করা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, চট্টগ্রাম নগরের খুলশী আবাসিক এলাকার ১ নম্বর সড়কের চারতলা বাড়ি তৈরিতে বিনিয়োগ করেন ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, ৬ নম্বর সড়কে সাততলা অ্যাপার্টমেন্টের বিনিয়োগ ৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং লালখান বাজারের এম এম আলী রোডে দশতলা বাণিজ্যিক ভবনসহ বিনিয়োগ ৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, তিনটি স্থাপনায় ইয়াহিয়ার মোট ১৩ কোটি ২০ লাখ ৬ হাজার ৩৫৩ টাকার বিনিয়োগ চিহ্নিত করা হয়। অথচ ২০০৭-০৮ করবর্ষ পর্যন্ত তাঁর আয়কর নথিতে এ খাতে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছিল মাত্র ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। ফলে ১১ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার ৩৫৩ টাকার বিনিয়োগ গোপন করার তথ্য প্রমাণ পায় দুদক। 

এছাড়া দুদকের তালিকায় ঢাকার বারিধারায় ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার ফ্ল্যাট, কক্সবাজার সদরে ১৭ লাখ টাকার দৈনিক ‘আজকের দেশ-বিদেশ’ পত্রিকার কার্যালয় এবং টেকনাফে ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় ‘নাফ ভিউ ফিলিং স্টেশন’ লিজ নেওয়ার হিসাব উঠে আসে। পাশাপাশি তাঁর নামে একটি বন্দুক ও পিস্তল ক্রয়ের তথ্যও নথিতে যুক্ত করা হয়। এসব সম্পদের বিপরীতে তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন

×