কুমিল্লার শাহ পরান হত্যার জট খুলল পাঁচ সেকেন্ডের ফুটেজে
এ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: সমকাল
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:২০
অটোরিকশা মেরামত করতে গিয়ে আর ফেরা হয়নি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার কিশোর শাহ পরানের। পরে তার হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কোনো ক্লু না পাওয়ায় খুনি শনাক্ত করতে পারছিল না পুলিশ। অবশেষে পাঁচ সেকেন্ডের একটি ফুটেজই শাহ পরানের খুনিদের কাছে পৌঁছে দেয় পুলিশকে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত দু'জন এবং চোরাই অটো কেনায় আরও দু'জনসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
শাহ পরান লালমাই উপজেলার বেতাগাঁও গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেটি মাঝেমধ্যে বড় ভাই শাহাদাত হোসেনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাত। বৃহস্পতিবার জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কিশোর শাহ পরান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আজিম-উল-আহসান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) তানভীর সালেহীন ইমন, লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর অটোরিকশাটি মেরাতম করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শাহ পরান। পরের দিন তার লাশ উদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো ক্লু ছিল না। পরে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে এ খুনের রহস্য বের করতে একটি বিশেষ টিম গঠন করেন লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব। এরপর বাগমারা বাজার থেকে লাকসাম পর্যন্ত সড়কের পাশে পাওয়া মোট ১৩টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ৪৫০ ঘণ্টার ফুটেজ সংগ্রহ করেন তিনি। সেই ফুটেজ ঘেঁটে মাত্র পাঁচ সেকেন্ডের ফুটেজে খুনের ক্লু খুঁজে পান তারা, যা খুনিদের কাছে পৌঁছে দেয় পুলিশকে।
আজিম-উল-আহসান আরও বলেন, ১৩টি সিসি ক্যামেরার মাত্র দুটিতে পাঁচ সেকেন্ডের ফুটেজে দেখা যায়, মাস্ক পরা এক যুবক পরানের অটোরিকশাটি চালাচ্ছে। পরে পরানের পরিবারও তাদের অটোরিকশাটি চিহ্নিত করে। এরপর ব্যাপক অনুসন্ধান ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত বুধবার নুর উদ্দিন নুরু নামে ওই যুবককে আটক করা হয়। নুরু লালমাইয়ের জয়নগর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে সে পুরো খুনের ঘটনা জানায়।
নুরু পুলিশকে জানায়, ওইদিন সে বাগমারা বাজার থেকে শাহ পরানের অটোরিকশাটি ৬০ টাকায় ভাড়া করে জয়নগর গ্রামে যাবে বলে। পথে একটি দোকান থেকে ১০ টাকার সুতলি (রশি) কেনে। এ সময় তার সহযোগী নাগরীপাড়া গ্রামের শহিদ উল্লাহসহ তারা অটোরিকশাটি কৌশলে ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে নিয়ে যায়। পরে নুরু ও শহিদ উল্লাহ মিলে শাহ পরানকে নদীর ভেতর ঝোপের মধ্যে নিয়ে সুতলি দিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর অটোরিকশা নিয়ে চলে যায় তারা। অটোরিকশাটি লাকসাম জংশনের ভাঙাড়ি দোকানি গোলাপ হোসেনের কাছে ১৫ হাজার টাকায় বেচে দেয়।
লালমাই থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, এক মাসের তদন্তে খুনের রহস্য বের হয়েছে। খুনে জড়িত দু'জন এবং চোরাই অটো কেনায় আরও দু'জনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরও কেউ জড়িত কিনা সেটাও তদন্ত করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- হত্যা
- শাহ পরান হত্যা
- চট্টগ্রাম
- কুমিল্লা
- লালমাই
