ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

হত্যাকারীকে চিনবে না ৫ মাসের মারিয়া, তাই প্রাণে বেঁচেছে সে!

হত্যাকারীকে চিনবে না ৫ মাসের মারিয়া, তাই প্রাণে বেঁচেছে সে!
×

বাবা-মা-ভাই-বোনকে হারিয়ে একা হয়ে বেঁচে আছে শিশু মারিয়া- সমকাল

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২০ | ১০:২৭

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় কীভাবে একে একে ভাই-ভাবী ও ভাইপো-ভাতিজিকে খুন করেছে সে বর্ণনা দিয়েছে নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রায়হানুল ইসলাম। এ সময় তার হাত থেকে কীভাবেই বা পাঁচ মাস বয়সী আরেক ভাইপো প্রাণে বেঁচে গেছে সে কথাও জানিয়েছে সে।

বুধবার বিকেলে সাতক্ষীরা সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির খুলনা বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক। তিনি জানান, রায়হানুল আদালতে এ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাড়ির পাশের পুকুর থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

রায়হানুলের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ ওমর ফারুক বলেন, ভাই-ভাবী ও ভাইপো-ভাতিজিকে হত্যা করলেও শিশু মারিয়া কাউকে চিনবে না বলে তাকে হত্যা করেনি সে।

সংবাদ সম্মেলনে শেখ ওমর ফারুক বলেন, রায়হানুল বেকার ছিল। এ কারণে গত জানুয়ারি মাসে তার স্ত্রী বাপের বাড়ি চলে যায়। এর পর থেকে ভাই-ভাবীর সংসারে সে খাওয়া-দাওয়া করত। রায়হানুল কোনো কাজকর্ম করত না বলে প্রায়ই ভাই-ভাবী তাকে গালমন্দ করতেন। ঘটনার দিন গত ১৪ অক্টোবর ভাবী তাকে বকাঝকা করেন। ওই দিনই রায়হানুল সিদ্ধান্ত নেয় ভাবীকে সে হত্যা করবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সন্ধ্যার পর একটি দোকান থেকে ঘুমের ওষুধ কিনে কোমল পানীয়র (স্পিড) সঙ্গে মিশিয়ে কৌশলে রাতেই ভাবি ও দুই বাচ্চাকে খাইয়ে দেয়। রাতে ভাবী ও বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়ে।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, রাত দেড়টার দিকে বড় ভাই শাহিনুর রহমান বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে দেখেন রায়হানুল টেলিভিশন দেখছে। এত রাত পর্যন্ত টেলিভিশন দেখা নিয়েও রায়হানুলকে বকাঝকা করেন ভাই শাহিনুর। তখন সে সিদ্ধান্ত নেয় শুধু ভাবীকে নয়, ভাইকেও খুন করবে। কৌশলে ভাইকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো কোমল পানীয় পান করায়। এর পর রাত ৩টার দিকে ভবনের কার্নিশ বেয়ে ছাদে ওঠে রায়হানুল। ছাদের দরজা খুলে নিচের তলায় গিয়ে প্রথমে ভাইকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার পর তার পা বেঁধে ফেলে রেখে আসে। এর পর পাশের ঘরে গিয়ে ভাবির গলায় চাপাতির কোপ দেয়। ভাবী চিৎকারে ছেলেমেয়েরা জেগে ওঠে। তখন একে একে সবাইকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় রায়হানুল। ভোরে প্রতিবেশীদের নিজেই ডাকাডাকি করতে থাকে।

‘ফোর মার্ডার’ ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মাত্র পাঁচ মাস বয়েসের শিশু মারিয়া খাতুন। শিশুটি বর্তমানে স্থানীয় হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার নাসিমা খাতুনের জিম্মায় রয়েছে।

মেম্বার নাসিমা খাতুন জানিয়েছন, 'জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোস্তফা কামাল শিশুটির যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে শিশুটি তার স্বজনদের কাছেই থাকবে। আর শিশুটির দেখভালের দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।'

গত ১৫ অক্টোবর ভোরে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান (৩৮), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩৫), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে তাসনিম সুলতানাকে (৬) কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।


আরও পড়ুন

×