ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিএন্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দিনভর অচলাবস্থা

সিএন্ডএফ এজেন্টদের কর্মবিরতি, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে দিনভর অচলাবস্থা
×

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২১ | ১১:৩৯

রাজস্ব কর্মকর্তাকে নাজেহাল করার অভিযোগে এক সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করায় কাজ বন্ধ রেখে দিনভর বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। 

পরে বৃহস্পতিবার বিকালে কাস্টম কর্তৃপক্ষ ও সিএন্ডএফ এজেন্টের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বিকাল সাড়ে পাঁচটার পরে ফের কাজ শুরু হয় কাস্টম হাউসে। 

চট্টগ্রাম কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু সমকালকে বলেন, ‘বুধবার আমদানিকৃত পণ্য খালাস করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ করতে গেলে সিএন্ডএফ এজেন্ট মেসার্স প্রাইম ক্লিয়ারিং হাউস থেকে বড় অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন রাজস্ব কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন। 

‘বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্টটির লাইসেন্স বাতিল করে দেন ওই রাজস্ব কর্মকর্তা। এটির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ছয় দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছি আমরা। পরে বিষয়টি সমাধান হওয়ায় কাজে যোগদান করেছে সবাই।’

কাস্টম কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রাজস্ব কর্মকর্তার সাথে দুর্বব্যবহার করেছে। শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেছে।তাই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টম হাউস।’  

লাইসেন্স বাতিলের প্রতিবাদে সকাল থেকে ছয় দফা দাবি নিয়ে কর্মবিরতি পালন করতে থাকে সিএন্ডএফ এজেন্টরা। 

সিএন্ডএফ এজেন্টদের ৬ দফা দাবির মধ্যে ছিল, মূল বা রেফারেন্স লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হলে সংশ্লিষ্ট পারমিট বাতিল বা স্থগিতের নিয়ম বাতিল করতে হবে। দেশের সব কাস্টম হাউস বা শুল্ক স্টেশনে অভিন্ন শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করে শুল্কায়নে ইতোপূর্বে বারবার গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারকদের অসম প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে গৃহীত সব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সব পর্যায়ের শুল্ক কর্মকর্তা কর্তৃক শুল্ক আইন, বৈধ এসআরও ও আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত ইতিবাচক সিদ্ধান্তগুলো অমান্য করার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে বৈঠকে ডাকেন কাস্টম কমিশনার ফখরুল আলম। দ্বিপাক্ষিক এ বৈঠকে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কাস্টম কর্তৃপক্ষ। তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। 

বিকাল ৫টায় এ সিদ্ধান্ত জানার পর সাড়ে পাঁচটা থেকে কাজ শুরু হয় কাস্টম হাউসে। জমে যাওয়া আমদানি নথির শুল্কায়ন করতে রাতে কাজ করার সিদ্ধান্তও জানান কাস্টম কমিশনার। 

কাস্টমসের পক্ষে বৈঠকে যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমদ, তাফসির আহমেদ, ডেপুটি কমিশনার সুলতান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে সভাপতি আকতার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, প্রথম যুগ্ম সম্পাদক কাজী মাহমুদ ইমাম বিলু, সিএন্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষে সভাপতি এনায়েত উল্লা খোকন, সেক্রেটারি মো. জাকির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হারুন বাবর উপস্থিত ছিলেন। 


আরও পড়ুন

×