ফলোআপ
অটোরিকশা ছিনতাই করতেই স্কুলছাত্র আশ্রাফুলকে খুন করা হয়
স্কুলছাত্র আশ্রাফুলকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। বায়েঁ প্রেসবিফিং করেন র্যাব-১১ অধিনায়ক লে.কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৩:৩৪ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২১ | ০৩:৩৪
কুমিল্লার তিতাসে মো. আশ্রাফুল আমিন নামে ৮ম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব-১১। অটোরিকশা ছিনতাই করতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তিনজন। বুধবার রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা আশ্রাফুল গাছের সঙ্গে বেঁধে ও নাক-মুখ স্কচটেপ পেঁচিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে।
নিহত মো. আশ্রাফুল আমিন জেলার দাউদকান্দি উপজেলার শাহপুর গ্রামের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মো. আল-আমিনের ছেলে এবং গ্রেপ্তাররা হলেন- সাইদুল ইসলাম, কিশোর চন্দ্র সাহা এবং রিফাত হোসেনকে গ্রেফতার করা হয় একই উপজেলার সরকারপুর গ্রামের মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে সাইদুল ইসলাম ও বুলিরপাড় গ্রামের মন্তোষ চন্দ্র সাহার ছেলে কিশোর চন্দ্র সাহা এবং জেলার চান্দিনা উপজেলার সাতগাঁও গ্রামের আবদুল হালিমের ছেলে রিফাত হোসেন।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পে এক প্রেসব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা।
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে গ্রেপ্তারা বাজার থেকে রশি ও স্কচটেপ কেনেন। পরে দাউদকান্দির গৌরীপুর বাজারে যাত্রীর জন্য অপেক্ষমান স্কুলছাত্র আশ্রাফুলকে টার্গেট করেন এবং তার অটোরিকশাটি ভাড়া নেন। পরে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দৈয়ারপাড় এলাকায় নিয়ে ছুরির ভয় দেখিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ও নাক-মুখ স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে হত্যার পর অটোরিকশাটি ছিনতাই করেন। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিনজনকে আটকের পর র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, স্কুলছাত্র আশ্রাফুল আমিন লেখাপড়ার পাশাপাশি করোনাকালে দরিদ্র পরিবারের ব্যয়ভার চালাতে অটোরিকশা চালিয়ে তার বাবাকে সহায়তা করে আসছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে দাউদকান্দি উপজেলার দৈয়ারপাড় এলাকার একটি মাছের প্রজেক্টের পাড়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা ও নাকে-মুখে স্কচটেপ মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের অটোরিকশা চালকের বাবা আল-আমিন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক জানান, এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়। বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাইদুল ইসলাম, কিশোর চন্দ্র সাহা এবং রিফাত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তিনজন হত্যার দায় স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ওই তিনজন নিজেরা চালিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পর অটোরিকশাটি উল্টে খাদে পড়ে যায় এবং সেখান থেকে তুলে আবারো চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ব্যাটারির চার্জ না থাকায় তারা অটোরিকশাটি ফেলে পালিয়ে যায়। এর মাস খানেক আগেও তারা একই কায়দায় আরো একটি অটোরিকশা ছিনতাই করেছে বলে জানিয়েছে।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক বলেন, দুপুরে গ্রেপ্তারদের দাউদকান্দি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রেসব্রিফিংয়ে র্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
