শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলায় হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন
এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩:২৮
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এখনও হাজারো পরিবার বিদ্যুতের আলো ও সুবিধাবঞ্চিত। অথচ এ উপজেলাকে ২০১৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঘোষণার দুই বছর পার হলেও সীতাকুণ্ডের আটটি ত্রিপুরাপাড়া ও মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম গুলিয়াখালী গ্রামের অন্তত এক হাজার পরিবারের কাছে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি।
উপজেলার দক্ষিণ সোনাইছড়ি, সীতাকুণ্ডের ছোটদারোগাহাট, সীতাকুণ্ড পৌর সদর, বাঁশবাড়িয়া, সুলতানামন্দির, ছোটকুমিরা, মধ্য সোনাইছড়ি, মদনাহাট এলাকায় পাহাড়ে বসবাসরত আটটি ত্রিপুরাপাড়ার ৮০০ পরিবার ও মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মুরাদপুর গ্রামের অন্তত ২০০ পরিবার এখনও বিদ্যুৎবিহীন।
বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ বলছে, যেসব জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব, সেখানে তাদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলমান। পাহাড়ি এলাকাগুলোতে গ্রাহক থেকেও সিস্টেম খরচ বেশি হওয়ায় সেখানে বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ছাড়া ত্রিপুরাদের নিজস্ব কোনো ভূমি না থাকায় তারা বিদ্যুৎ পায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্য সোনাইছড়ি গ্রামে বিদ্যুৎ আছে এমন জায়গা থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরে ত্রিপুরাপাড়ার অবস্থান। গ্রামটি দুর্গম এলাকায় না হলেও বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত। পশ্চিম মুরাদপুর গ্রামের শুরু থেকে সোলেমান মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটি রয়েছে। তার পর থেকে অন্তত ২৫০ মিটার খুঁটি ছাড়াই বিভিন্ন গাছের সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার বেঁধে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। এর পর থেকে সাগর উপকূল পর্যন্ত অন্তত ২০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ইতোমধ্যে গুলিয়াখালী সৈকতটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অথচ সূর্য অস্ত যেতে না যেতেই অন্ধকারে ছেয়ে যায় সৈকত এলাকা। ফলে পর্যটকদের ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এদিকে ত্রিপুরাপাড়া পাহাড়ের ধারে হওয়ায় রাতে চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়।
পশ্চিম গুলিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, তাদের গ্রামের বাসিন্দাদের বেশিরভাগেরই সৌরবিদ্যুতের প্যানেল লাগানোর সামর্থ্য নেই। একমাত্র মসজিদটিতেও বিদ্যুৎ নেই। ফলে এলাকার মুসল্লিরা রাতের বেলায় নামাজে যেতে পারে না। কেরোসিন তেলের দামও বেশি। ফলে কম আলোতে তাদের শিশুদের পড়শোনা করতে হয়।
অপর বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, আট বছর ধরে বিদ্যুৎ কার্যালয়ে ধরনা দিচ্ছেন। আজ দেবে কাল দেবে করে অদ্যাবধি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। আটটি ত্রিপুরাপাড়ার তিনটি ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের অধীনে। বাকি পাঁচটি ত্রিপুরাপাড়া ও পশ্চিম মুরাদপুর গ্রামটি বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের অধীন।
ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল্ল্যাহ বলেন, মধ্য সোনাইছড়ি ত্রিপুরাপাড়ার আবেদনটি চলমান প্রকল্পে পাঠানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে হয়তো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। অন্য দুটি পাড়ার লোকজন আবেদন করলে তাদের কর্মকর্তারা পাড়াগুলো সার্ভে করবেন। সুযোগ থাকলে দ্রুত সংযোগ দেওয়া হবে।
বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবীর বলেন, সীতাকুণ্ডের সমতলভূমিতে কোনো গ্রাম বিদ্যুৎবিহীন থাকার কথা নয়। কীভাবে গ্রামটি বিদ্যুতের আওতার বাইরে রয়েছে, তা তিনি খতিয়ে দেখবেন।
স্থানীয়দের আবার দরখাস্ত আহ্বানের পরামর্শ দিয়ে এ নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আবেদন পেলে দ্রুত ওই গ্রামে বিদ্যুৎ দেওয়া হবে। এছাড়া অন্য পাঁচটি ত্রিপুরাপাড়ায় বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে। তবে সংযোগ লাইন হবে ভূমির মালিকের নামে। ভূমির মালিক বিদ্যুতের আবেদন করলে তা যাচাই-বাছাই করে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- বিদ্যুৎহীন
- সীতাকুণ্ড
- হাজার পরিবার
