খুলনার পাটকল শ্রমিকদের পাশে প্ল্যাকার্ড হাতে সন্তানরা
বুধবার বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে পাটকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায় তাদের সন্তানরা- সমকাল
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:২৬
রাজপথে অনাহারেই বছর শুরু হলো খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকদের। দেশের মানুষ যখন প্রথম প্রহরে নতুন বছরকে বরণ করতে ব্যস্ত, তখন প্রচণ্ড শীতে অনশনের আরেকটি রাত পার করেছেন তারা। বুধবার টানা চতুর্থ দিনের মতো অনশন করছেন খুলনার পাটকল শ্রমিকরা।
এদিন অভুক্ত পাটকল শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ায় তাদের সন্তানরা। বুধবার দুপুর দেড়টায় স্কুল থেকে শিশুরা এসে অনশনস্থলে জড়ো হয়। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড। এসব প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- 'পিতার চাকরির নিশ্চয়তা চাই', 'আমি শ্রমিকের সন্তান, এটাই কি আমার অপরাধ?' 'বাবা মিলে চাকরি করে, আমি কেন পাই না খেতে', 'সোনালি আঁশের সোনার দেশ, ব্যর্থ মন্ত্রী করল শেষ'। এক শিশুর হাতের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমি কি রাসেল না?' শ্রমিকদের সন্তানরা সেখানে প্রায় আধাঘণ্টা বিক্ষোভ করে। পরে অন্য শ্রমিকরা এসে তাদের সরিয়ে দেন।
এদিকে বুধবার বিকেল পর্যন্ত অনশনে থাকা ২০ জনের মতো শ্রমিককে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে ৬০ জনের মতো শ্রমিককে। আর শীতের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক।
শ্রমিকরা বলছেন, অনশনে যখন বসেছেন, তখন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবেন না। মজুরি কমিশনের তথ্য খাতায় লিপিবদ্ধ করার পর তারা অনশন ভাঙবেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে শ্রমিকরা এই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। মঙ্গলবার বিকেলে পাটকল শ্রমিক নেতাদের নিয়ে বৈঠক করতে চেয়েছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক। কিন্তু শ্রমিকরা তার আহ্বানে সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও খুলনার ক্রিসেন্ট জুট মিল সিবিএর সাবেক সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, এর আগে মজুরি কমিশন নিয়ে আন্দোলনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনিও। কিন্তু শ্রমিকরা এখনও মজুরি কমিশন পাননি। যেহেতু জেলা প্রশাসক তার আগের প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেননি, তাই শ্রমিকরা তার আহ্বানে সাড়া দেননি।
খুলনা অঞ্চলে মোট রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় সাতটি ও যশোরে দুটি। টানা অনশন কর্মসূচি চলার কারণে খুলনার সাতটি মিল বন্ধ রয়েছে।
