সাশ্রয়ের জন্য ওএমএসের লাইনে মধ্যবিত্তরাও
বাজারে কয়েক মাস ধরে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সপ্তাহ দুয়েক ধরে আটার দামও বাড়ছে। কিছুটা সাশ্রয়ের জন্য ওএমএসের ট্রাকের পেছনে লাইন ধরে চাল-আটা কিনছে মানুষ। ছবি: সমকাল
জসিম উদ্দিন বাদল
প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:৫৪ | আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:৪৬
‘বাবা, এই মোটা চাইল সবাই খায় না। আমরা এগুলা খাইয়া অভ্যস্ত। বাজার থেকেও এগুলাই কিনি। চাইল ভালা। কিন্তু ভালো করে ধোয়া লাগে।’ গত মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বিজি প্রেসের সামনে থাকা ওএমএসের ট্রাক থেকে পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনে বাসায় ফিরছেন রাহেলা বেগম। চালের মান কেমন জানতে চাইলে ষাটোর্ধ্ব এই নারী ক্রেতা এভাবেই তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেন।
রাহেলা বেগম বলেন, ‘বাজারে অনেক দিন ধরি চালের দাম বেশি। সরকারি চাইল কিনলে কিছু ট্যাকা বাঁচে। এ জন্য কষ্ট হলেও দূর থেকে আসি।’
তবে টাকা সাশ্রয় করতে এসে খুব বেশি সুবিধা করতে পারলেন না বেগুনবাড়ি এলাকা থেকে আসা সাজেদা বেগম। ৩০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে এসে তিনি পাঁচ কেজি আটা কেনার পর ট্রাকটি বিজি প্রেসের কর্মচারীরা এসে নিয়ে যান।
গাড়িটি চলে যাওয়ায় সাজেদা বেগম বলেন, ‘আসা-যাওয়া রিকশা ভাড়া ৬০ টাকা খরচ। মাত্র পাঁচ কেজি আটা কিনতে পারলাম। লাভ হইল কী?’
ট্রাকটির এক বিক্রয়কর্মী জানান, তাদের বিজি প্রেসের স্টাফ কোয়ার্টারে পণ্য বিক্রির কথা ছিল। স্থানটি খুঁজে না পাওয়ায় তারা বিজি প্রেসের সামনে বিক্রি করছিলেন। স্টাফ কোয়ার্টার থেকে লোকজন আসায় তারা খাদ্য অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট করে দেওয়া স্থানে বিক্রি করবেন বলে পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে চলে যান।
গতকাল খাদ্য অধিদপ্তর রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন স্থানে ৭০টি ট্রাকের মাধ্যমে চাল ও আটা বিক্রি করেছে। এর মধ্যে চাল ছিল ১৫০ টন এবং আটা ১৪০ টন। কম আয়ের মানুষের মধ্যে সাশ্রয়ী দামে চাল-আটা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকারের এ উদ্যোগ।
গতকাল সরেজমিন তেজগাঁও, বীরউত্তম সি আর দত্ত রোড ও পান্থপথ ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতারা ট্রাক থেকে পাঁচ কেজি করে চাল ও পাঁচ কেজি খোলা আটা কিনতে পারছেন। কেউ চাইলে শুধু আটা কিংবা চাল কিনতে পারেন। প্রতি কেজি চাল (মোটা) ৩০ টাকা এবং প্রতি কেজি আটা (খোলা) ২৪ টাকা।
বাজারে কয়েক মাস ধরে চালের দাম উত্তাপ ছড়াচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েক ধরে আটার দামও বাড়ছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় এবং প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫২ টাকায়। সেই হিসাবে ওএমএসের ট্রাক থেকে কিনলে পাঁচ কেজি চাল ও পাঁচ কেজি আটায় একজন ক্রেতার সাশ্রয় হচ্ছে ২৩০ থেকে ২৯০ টাকা।
এই অর্থ সাশ্রয়ের জন্য ক্রেতারা ছুটছেন ওএমএসের ট্রাকের পেছনে। তীব্র রোদেও লাইন ধরে চাল-আটা কিনছেন ক্রেতারা। এই লাইনে শুধু নিম্ন আয়ের মানুষ দাঁড়িয়েছেন তা নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকদেরও লাইনে দাঁড়িয়ে চাল-আটার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন হাবিবুর রহমান। এখন অবসরে। পান্থপথে ৫ কেজি আটা কিনে বাসায় ফেরার পথে নিজের অবসর জীবনের কথা জানান তিনি। হাবিবুর রহমান জানান, ডায়াবেটিসের কারণে তাঁকে সকাল-রাতে রুটি খেতে হয়। বাজারে আটার দাম বেড়ে গেছে। সেজন্য বাধ্য হয়ে ওএমএসের আটা কিনতে এসেছেন তিনি।
খাদ্য সচিব মাসুদুল হাসান সমকালকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাল, আটা ও ভুট্টা বিক্রি করার এখতিয়ার আছে। ভুট্টা তো এখন দেওয়া সম্ভব নয়। তা ছাড়া টিসিবি অন্য পণ্য বিক্রি করছে। সেজন্য ওএমএসের মাধ্যমে চাল-আটা দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- ওএমএসের চাল
