জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব: আবু আলম শহীদ খান
‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৩৯ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৪৬
সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘জ্বালানি খাতের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব। আমরা যদি ২০ বছরের সুদূরপ্রসারী চিন্তা না করি, তবে আগামী ৪৬ বছর ধরেও কেবল সমস্যা নিয়েই আলোচনা করতে হবে। সাত দিনের মাথায় সমাধান বা জরুরি ভিত্তিতে এফএসআরইউ স্থাপনের যে তোড়জোড় আমরা দেখি, তা টেকসই কোনো সমাধান নয়।’
বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।
শহীদ খান আরও বলেন, সুশাসনের অভাব আমাদের জ্বালানি কুরে কুরে খাচ্ছে। যেখানে টেকনিক্যাল সিস্টেম লস ২ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়, সেখানে আমাদের গ্যাস সেক্টরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লস দেখানো হচ্ছে। এটি আসলে সিস্টেম লস নয়; বরং অব্যবস্থাপনা ও সুশাসনের অভাব।
তিনি বলেন, বাপেক্স নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে। আমরা সবাই জানি, আমাদের কোথায় কি যোগ্যতা, কী সীমাবদ্ধতা আছে। প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট কেন হয় না এই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট হয় না, কারণ আপনি তো প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট করার পরপরই তার পেছনে গোয়েন্দা লাগিয়ে দেন। বুরোক্রেসি ও পলিটিশিয়ানরা দুর্নীতির অভিযোগের ভয়েও কাজ করতে চায় না।
তিনি বলেন, দুইটা উদাহরণ রয়েছে। একটা হলো- সাবমেরিন ক্যাবল ১৯৯০ সালে বিনা পয়সায় দিচ্ছিল। তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বোঝানো হলো যে, এই সাবমেরিন ক্যাবল আসলে আমাদের বাংলাদেশের নাকি সার্বভৌম চলে যাবে। এই সাবমেরিন ক্যাবল আমরা ১৪ বছর পরে যখন নিলাম তখন আমরা কিন্তু ৫৫০ কোটি টাকা বেশি ব্যয় করলাম। আর ১৪ বছরের লোকসানটা চিন্তা করেন। এই যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে কোথায় বড় ধরনের গলদ আছে এইটা যদি আমরা খুঁজে না বের করতে না পারি কখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না।
আবু আলম শহীদ খান বলেন, একই রকমভাবে আমার কাছে খুব ইন্টারেস্টিং মনে হয় যে, আরাকান বা রাখাইনের গ্যাসটা কেন আমরা পাই না। সেই গ্যাসটা এক সময় রাখাইন থেকে বাংলাদেশ হয়ে ভারত যাওয়ার একটা পাইপলাইন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছিল। ২০০৫ সালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসেছিলেন। তখন আলাপ-আলোচনা হয় যে, আমরা এভাবে একটা পাইপলাইন করলে সমস্যার সমাধান হবে। তবে শেষ পর্যন্ত এমওইউটা হলো না। পরে যা হলো- চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন একটা এগ্রিমেন্ট করে ফেলল রাখাইনের সাথে। তারা প্রায় ৭৯৩ কিলোমিটার পাইপলাইন করে তাদের গ্যাস নিয়ে যাচ্ছে রুয়িলি ইউনান প্রভিন্সে। তাহলে আমরা কীভাবে মিস করি সুযোগ। মানে আমাদের তো একটা বড় ধরনের চিন্তা করতে হবে।
তিনি বলেন, পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক যারা ১০ ঘন্টাও বিদ্যুৎ পায় না, একটা বাতি জ্বালাতে পারে না, একটা ফ্যান চালাইতে পারে না। আর আমরা এখানে বসে বসে আমাদের বাসায় চারটা পাঁচটা এসি চালাই, খুব আরামে থাকি। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চলে তবুও এসি বন্ধ হয় না। এ রকম তো নানান সমস্যা আছে। এগুলোর একটা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান বের করতে হবে আলোচনার মাধ্যমে। তাড়াহুড়ো করে কিন্তু কিছুই সমাধান হবে না।
- বিষয় :
- জ্বালানি খাত
- জ্বালানি সংকট
- সংলাপ
- সুশাসন