ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিল্পখাতে ভয়াবহ মানবিক-আর্থিক সংকট: বিকেএমইএ সভাপতি

দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিল্পখাতে ভয়াবহ মানবিক-আর্থিক সংকট: বিকেএমইএ সভাপতি
×

‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শীর্ষক সংলাপে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬ | ১৪:৪৫ | আপডেট: ০১ আগস্ট ২০২৬ | ১১:৪৬

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাস সরবরাহ দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় শিল্প খাতে এক ভয়াবহ মানবিক ও আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস নেই। আগামী ১০ আগস্টের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রায় ২৫ দিন কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যত বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, এতে আমরা নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে পারব না। ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখতে আমাদের এখন বিশাল অঙ্কের খরচ দিয়ে এয়ার শিপমেন্ট করতে হবে, যা মোট রপ্তানি মূল্যের ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হতে পারে। অন্যথায় ক্রেতারা অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট বা ছাড় চাইবে। 

বৃহস্পতিবার সমকাল আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জ্বালানি খাতে সংকট: উত্তরণে করণীয়’ শিরোনামে এ সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকাল কার্যালয়ে সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো মাসের শুরুতে শ্রমিকদের বেতন দিতে হয়। উৎপাদন না থাকলে আমরা এ বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হব, যা থেকে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। এ ছাড়া ব্যাংকের ঋণের কিস্তি দিতে না পারলে আমাদের খেলাপি ঘোষণা করা হবে। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে শিল্প মালিকদের প্রতি সহনশীল হয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সহজ কোনো সমাধান দেওয়া হোক।

তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস আমাদের গ্যাস দিতে পারছে না। এটার জন্য ওনাদের যেখানে অনুতপ্ত হওয়া দরকার, তা না করে আমরা যখন কোনোভাবে সিলিন্ডারে করে নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলাম তখন সেটাকে ওনারা চিঠি দিয়ে বাধা প্রদান করছে। অনুরোধ করবো এই কাজটা থেকে ওনারা যেন বিরত থাকেন। মন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করবো, আপনি তিতাসকে বলেন যে, এই ধরনের অ্যাটিটিউড ওনারা যেন না করেন।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এই যে ২৫ দিন আমার উৎপাদন বন্ধ থাকলো এর যে কনসিকুয়েন্স দেখা যাবে বায়ার আমাকে প্রেসার ক্রিয়েট করছে এয়ার শিপমেন্ট দিতে হবে। যেহেতু আমি শিপমেন্ট ডেট ফেল করছি, এয়ার শিপমেন্ট দেওয়া মানে আমার টোটাল এক্সপোর্ট ভ্যালুর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নাই। অথবা মিনিমাম একটা ডিসকাউন্ট করতে হবে। তাহলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ ডিসকাউন্ট করতে হবে। সেখানে একটা বড় ধরনের শর্টফল তৈরি হবে আমার ক্যাপিটালের।’ 

তিনি বলেন, ‘এই শর্টফলটার পরে যেটা দাঁড়াবে- আমার প্রতি মাসের সাত কর্ম দিবসে বেতন দিতে হয় শ্রমিকের। তাহলে আমি বেতনটাও শ্রমিকের দিতে পারব না। সেখানে একটা শ্রম অসন্তোষ ঘটতে পারে। এরপরে ব্যাংকের রি-পেমেন্ট শিডিউল আছে, সেটাও আমি ফেল করব। আল্টিমেটলি তখন আমাকে কি ক্লাসিফাইড করা হবে? যদি ক্লাসিফাইড করা হয় তাহলে আমার সব কার্যক্রম বন্ধ। এই বিষয়গুলোর জন্য অন্যদিকে না গিয়ে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থমন্ত্রী, জ্বালানিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো- আমি বলব না কি করবেন বা কি করা উচিত। এই প্রেক্ষাপটে সহনীয় পর্যায়ে কোনো কিছু একটা করার জন্য আমি বিনীত অনুরোধ করব।’
 

আরও পড়ুন

×