পানির অভাবে পুকুর খনন করে পাট জাগ
আলফাডাঙ্গায় ক্ষেতের পাশেই আবাদি জমিতে পুকুর কেটে স্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে পাট জাগ দিচ্ছেন পাটচাষি দুলাল মণ্ডল - সমকাল
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০
গত দু'বছর পাটের ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। তাই এ বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করেছেন তাঁরা। বাম্পার ফলনও হয়েছে। জমিতে ভালো ফলন দেখে আশায় বুক বেঁধেছিলেন চাষিরা। কিন্তু প্রকৃতির বৈরী আচরণে সে আশা ফিকে হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ষড়ারকান্দি গ্রামের দুলাল মণ্ডল এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। চারদিকে কোথাও পানি নেই। জাগ দিতে না পারলে ক্ষেতেই শুকিয়ে যাবে পাট। এতে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বেন তিনি। অনেকটা নিরুপায় হয়েই নিজের পাঁচ শতক জমিতে ছোট্ট পুকুর তৈরি করেছেন এক্সক্যাভেটর দিয়ে। সেখানে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে পানি তুলে পুকুরটি ভরা হয়েছে।
দুলাল মণ্ডল বলেন, পানি না থাকায় বাধ্য হয়েই জমিতে পুকুর করতে হয়েছে। এতে খরচ বাড়লেও জাগ তো দেওয়া গেছে।
ক্ষেতের আশপাশের ডোবা, নালা ও খালে পানি নেই। তাই ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের কাউনিয়া গ্রামের কৃষক সাত্তার মোল্লা।
শুধু দুলাল মণ্ডল ও সাত্তার মোল্লা নন, তাঁদের মতো হাজারো চাষির প্রায় একই অবস্থা।
কারণ ভরা বর্ষা মৌসুমে আশানুরূপ বৃষ্টির দেখা মেলেনি এ বছর। তাই নালা-ডোবা, খাল-বিল অনেকটা পানিশূন্য। তাই পাট জাগ দেওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে বেশিরভাগ অঞ্চলে। এতে লাভের বদলে লোকসানের মুখে চাষিরা।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক ড. অরবিন্দু কুমার রায় জানান, এ বছর জেলায় ২৬ হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ২.৪ টন পাট উৎপাদিত হবে। সে হিসাবে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬২ হাজার ৬৬৪ টন। পাটের দাম ভালো রয়েছে। প্রায় ৪শ কোটি টাকায় বিক্রির আশা তাঁর।
কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক বলেন, এ বছর পাট চাষে অনুকূল পরিবেশ ছিল। চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু এলাকায় পানির অভাবে পাট জাগ দিতে সমস্যা হচ্ছে কৃষকের। এ কারণে সব স্লুইসগেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
অন্য বছর ১ হেক্টর জমিতে পাট চাষে ৭৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ বছর খরচ হয়েছে ৯০ হাজার। পানি সংকটের কারণে জমি থেকে পাট কেটে অন্যত্র জাগ দেওয়ায় তাদের খরচ বেড়েছে বলে দাবি করেছেন কাশিয়ানী উপজেলার ব্যাসপুর গ্রামের কৃষক মাজহার আলী।
মুকসুদপুর উপজেরার গাড়লগাতী গ্রামের রবিউল শেখ বলেন, পচা পানিতে পাট জাগ দেওয়ায় রং ভালো হচ্ছে না।
আলফাডাঙ্গার বানা ইউনিয়নের টুনারচর গ্রামের কামাল হোসেন তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। সেই পাট কেটে ফেলেছেন আমন ধান রোপণ করবেন বলে। বীজতলা প্রস্তুত থাকলেও বৃষ্টির অভাবে জমি চাষ করতে পারছেন না তিনি। তিনি বলেন, 'কয়েক দিন দেখার পর সেচের ব্যবস্থা করে ধান লাগাব।' '
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপন প্রসাদ সাহা জানান, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিছু স্থানে পানি জমা হয়েছে। এখন ভারি বর্ষণ হলে খালবিলে পানি জমার পর পাট জাগ দিতে সমস্যা থাকবে না। তখন কৃষক পাট জাগ দিতে পারবেন।
সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রামের কৃষক আলাউদ্দিন বলেন, 'কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় মাঠের পাট মাঠেই পুড়ছে।'
