ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

লোকসংগীত শিল্পীসহ আট হাজার পরিবারকে নির্মূল কমিটির ত্রাণ সহায়তা

লোকসংগীত শিল্পীসহ আট হাজার পরিবারকে নির্মূল কমিটির ত্রাণ সহায়তা
×

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা শাখার উদ্যোগে সাঁওতালদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ -সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০৫:১৩ | আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২০ | ০৬:৪৮

'করোনাভাইরাসে কেহ মরে উপবাসে/কেহ আছে বসে পাঁচ তলায়/আসিল কী দুর্দিন, সবাই গনে নিজের দিন/বিত্তহীন একেবারে নিরুপায়/হায়রে করোনার ডর, ভাইয়ে নেয় না ভাইয়ের খবর/ কেউরে কেউ এক নজর দেখতে না যায়।' করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে থমকে যাওয়া জনজীবনের এমন চিত্রই তুলে এনেছেন গানের কথায় বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের একলব্য শিষ্য বাউল আবদুর রহমান।

কারণ করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে দুই মাসের সরকারি ছুটি শেষে নগরজীবন কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি এসব লোকসংগীত শিল্পীদের। দেশে এখনও জনসমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। ফলে থমকে আছে দোতারার টুংটাং হৃদয়স্পর্শী সুরের আওয়াজও। গানের খাতায় নেই নতুন শব্দ বুননের আয়োজন। বন্ধ হয়ে গেছে শিল্পীদের আয়-উপার্জন। নিদারুণ কষ্টে আছেন তারা।

আর এমন পরিস্থিতিতে দেশের লোকসংগীত  শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারও পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত সংগঠন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গত আড়াই মাসে প্রায় তিনশ লোকসঙ্গীত শিল্পীসহ করোনা দুর্গত সাড়ে সাত হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে সংগঠনটি। 

গত মাসের শেষ দিকে সহায়তা দেওয়া হয় কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় মরমীসাধক লালন ফকিরের আখড়ায়। ওই আখড়ায় ৩৭ জন বাউল শিল্পী রয়েছেন। আগামী সপ্তাহে রাঙামাটি জেলায় সংগঠনের উদ্যোগে শতাধিক পরিবারকে খাদ্য সহায়তা তুলে দেবে সংগঠনটি। আর এসবই হচ্ছে সংগঠনের  অষ্টম জাতীয় সম্মেলনের জন্য অর্জিত টাকা থেকে। কারণ করোনায় সংগঠনের এবারের সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির সমকালকে বলেন, 'গত মার্চে নির্মূল কমিটির জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে সমাবেশ আয়োজনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় তখন সেটি স্থগিত করা হয়েছে। পরে আমরা দুর্গত মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনায় নিয়ে সম্মেলন আয়োজনে সদস্যদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমে খরচের সিদ্ধান্ত নেই। একসঙ্গে জেলা ও উপজেলা কমিটিও নানাভাবে টাকা সংগ্রহ করে দুর্গতদের সহায়তা কার্যক্রমে এগিয়ে নিয়েছে। গত আড়াই মাসে এ পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার পরিবারকে সংগঠনের পক্ষ থেকে খাদ্য সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে।'

তিনি জানান, কুষ্টিয়ার বাউল শিল্পী কাঙালিনি সুফিয়ানাকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আরও কিছু মুক্তিযোদ্ধা, স্কুল শিক্ষকসহ পেশাজীবিদের সংগঠন থকে অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। কারণ তাদের অনেকেই সরকার থেকে ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেলেও তা যথেষ্ট ছিল না। চিকিৎসা,ওষুধসহ বিভিন্নখাতে তাদের নগদ সহায়তার প্রয়োজন ছিল। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে  প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে আমরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।

নির্মূল কমিটির অন্যতম শাখা কার্যক্রম হচ্ছে সংস্কৃতি বিগ্রেড। এর অধীনে লোক সঙ্গীত শিল্পীদের মানবাধিকার ও আইনী সেবা দেয় সংগঠনটি। করোনায় লোকসংগীত শিল্পীদের দুর্দশার বিষয়টি নজরে এলে তাদেরও বিশেষ সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া, ঠাকুরগাঁও,নাটোর, রংপুর, লালমনিরহাটসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা প্রায় তিনশ লোকসংগীত শিল্পীকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেন, বাউলসহ লোকসংগীত শিল্পীরা তাদের গানের কথায় মানবতার কথা, জীবনের কথা তুলে ধরেন। অথচ তাদের অনেকেই করোনা পরিস্থিতিতে কষ্টে ছিলেন। আমরা তখন স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে লোকসংগীত শিল্পীদের তালিকা সংগ্রহ করে সহায়তার জন্য দিয়েছিলাম। কিন্তু শিল্পীরা অত্যন্ত আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। তারা লাইন ধরে জেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য সহায়তা নিতে সন্মত হননি। পরে আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকেই তাদের সহায়তা দিয়েছি এবং সেটি অব্যহত আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধ্যনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রম অব্যহত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন

×