ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ঢাকার জলাবদ্ধতা

‘ড্রেনেজ সার্কেল’ অচল, ভোগান্তি সচল

‘ড্রেনেজ সার্কেল’ অচল, ভোগান্তি সচল
×

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বৃষ্টিপাত সামান্য ভারী হইলেই রাজধানীতে যেইভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, উহার নেপথ্যে কাঠামোগত সংকটই প্রধান। বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনমতে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে খাল ও নালা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ ‘ড্রেনেজ সার্কেল’ পাঁচ বৎসরেও চালু হয় নাই; জনবল নিয়োগ ও উপকরণ সংগ্রহের বিষয়টি নিছক আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আবদ্ধ। আমরা জানি, ২০২০ সালের শেষ দিবসে ঢাকার দুই সিটির তৎকালীন মেয়র ও ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের উপস্থিতিতে ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেল আনুষ্ঠানিকভাবে দুই সিটি করপোরেশনে স্থানান্তর হইয়াছিল। প্রশ্ন হইতেছে, জনবল ও উপকরণ নিশ্চিত না করিয়াই দায়িত্ব হস্তান্তরে এইরূপ দ্রুততার হেতু কী? ঘোড়ার অগ্রভাগে গাড়ি সংযোগে কাহার লাভ হইয়াছে– অনুসন্ধানের বিষয়। 

গত সাড়ে পাঁচ বৎসরের অধিক সময় অতিক্রমের পরও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ড্রেনেজ সার্কেল চালু না হইবার বিষয়টি কেবল প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতাই নহে; বরং নাগরিক ভোগান্তির প্রতি সীমাহীন ঔদাসীন্যেরও প্রমাণ। আমরা দেখিয়াছি, ভারী বর্ষণে গত রবিবার রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা ডুবিয়া গিয়াছিল; তন্মধ্যে কতিপয় এলাকায় ইতোপূর্বে কখনও পানি উঠে নাই। জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি করপোরেশন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসাবে মাঠে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ নামাইলেও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে তাহাদের কোনো জনবলই নাই! 

সমকালের অনুসন্ধানে উঠিয়া আসিয়াছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন হইতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ড্রেনেজ সার্কেলের জন্য যেই জনবল কাঠামো পাঠানো হইয়াছিল, তাহাতে দেড় শতাধিক পদ থাকিলেও এত জনবল প্রদানে মন্ত্রণালয়ের অনাগ্রহে বিষয়টি কয়েক বৎসরের জন্য আটকাইয়া যায়। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসে দুই সিটি করপোরেশনের জন্য ৩১ জন করিয়া জনবল অনুমোদন করিলেও উহা এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দি। আমরা মনে করি, নগরায়ণের সহিত তাল মিলাইয়া কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা গড়িয়া তুলিবার বিকল্প নাই। জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় লইয়া আমলান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার হেতুও খতাইয়া দেখা জরুরি। স্মরণে রাখিতে হইবে, জলাবদ্ধতা কেবল নাগরিক দুর্ভোগই সৃষ্টি করে না; ইহার প্রভাবে জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং নগর ব্যবস্থাপনাও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তথাপি কর্তৃপক্ষের টনক না নড়িবার কারণ কী?

ইহাও বৃহৎ প্রশ্ন, পাঁচ বৎসরেও কেন এই জরুরি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হইল না? পরিকল্পনা গ্রহণের পরও তাহা বাস্তবায়নে যদি বৎসরের পর বৎসর অতিক্রান্ত হয়, তবে উহার সুফল জনগণ পাইবে কখন? কেবল প্রকল্প ঘোষণা বা প্রশাসনিক অনুমোদনই উন্নয়ন নহে; কার্যকর বাস্তবায়নই তাহার প্রকৃত মানদণ্ড। আমরা প্রত্যাশা করি, এই দীর্ঘসূত্রতার অবসান ঘটাইতে প্রশাসন ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ড্রেনেজ সার্কেল দ্রুত চালু করিয়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। 
পূর্বে জলাবদ্ধতা হইলে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে রশি টানাটানি চলিত। কার্যটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে যাইবার পর যেইখানে পরিস্থিতির উন্নতি হইবার কথা, সেইখানে আরও অবনতি হতাশাব্যঞ্জক বটে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় বিষয়াদিতে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের ঔদাসীন্য লইয়া কেবল হতাশা প্রকাশই যথেষ্ট নহে; ইহার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও লইতে হইবে। নাগরিকদের বারংবার একই দুর্ভোগে ঠেলিয়া দিবার দায়িত্বহীনতা আর চলিতে দেওয়া যায় না। 

আরও পড়ুন

×