সংবাদ সম্মেলন
টাঙ্গাইলে পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২০ | ০৭:২৪
টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে থানায় তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর নাম ফরিদ মিয়া। তিনি শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, এক লাখ টাকা চুরির মিথ্যা অভিযোগে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ মিয়া অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরী গত ১৩ মার্চ বিকেলে তার বাংলোয় ফরিদকে ডেকে নেন। এ সময় তাকে দোতলার পূর্ব পাশের ঘরে আটকে রেখে চুরি করা এক লাখ টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। ফরিদ এতে অবাক হন। কারণ তিনি চুরির বিষয়ে কিছুই জানেন না। সে কথা পুলিশ সুপারকেও বলেন। তবে তার কথায় কর্ণপাত না করে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে বেধড়ক পেটান। পরে তিনি থানায় ফোন করলে এসআই আবুল বাশার মোল্লা বাংলোতে গিয়ে ফরিদকে জেরা করেন। তিনিও আরেক দফা মারধর করেন। শেষে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে মির্জাপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চোখ ও হাত বেঁধে লাঠিপেটা করা হয়। তখন এসআই বাশার তাকে বলেন, ‘তুমি খারাপভাবে ফেঁসে গেছ। চুরি না করলেও তোমাকে এক লাখ টাকা দিতে হবে।’ পরে চোখ বাঁধা অবস্থায় তাকে ঝুলিয়ে হাঁটুতে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। টাকা না দিলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলারও ভয় দেখানো হয়। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে ফরিদ তার স্বজনদের টাকার ব্যবস্থা করতে বলেন। ধারকর্জ করে ৭০ হাজার টাকা সংগ্রহ করতে তাদের তিন দিন লেগে যায়। সেই তিন দিন থানা হাজতে রাখার পর ১৫ মার্চ বিকেলে এসআই বাশার তাকে পিটিসির ওই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যান। তখন ফরিদের মামা আনোয়ার হোসেন, ভাবী রেখা বেগম, স্ত্রী মুক্তা, বাবা ইসমাইল হোসেন, চাচা নিয়ত আলী ও এসআই বাশারের উপস্থিতিতে ৭০ হাজার টাকা পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর ‘মুক্তি’ পান ফরিদ। এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ও সুবিচার চেয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগ করেছেন তিনি। এরপর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও এসআই বাশারের লোকজন তাকে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ফরিদ।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে টাঙ্গাইল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের কমান্ড্যান্ট, অভিযুক্ত পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শকের (গণমাধ্যম) মোবাইল ফোনে কল করা হয়। তবে তারা কল রিসিভ করেননি।