ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সুন্দর ভবিষ্যতের পথ তৈরি করবে

৯১তম জন্মদিনে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী

মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সুন্দর  ভবিষ্যতের পথ তৈরি করবে
×

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে গতকাল মঙ্গলবার আয়ােজিত জন্মোৎসবে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীকে শুভেচ্ছা জানান অতিথিরা সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ০৮:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

একদিন মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা সব সংকট অতিক্রম করে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের পথ তৈরি করবে বলে বিশ্বাস করেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। গতকাল মঙ্গলবার নিজের ৯১তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘কী দেখেছি, কী বুঝেছি’ শীর্ষক আত্মজীবনীমূলক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। 

বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে জন্মোৎসবের আয়োজন করে ত্রৈমাসিক সাহিত্যপত্র নতুন দিগন্ত পরিবার। দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে পত্রিকাটির সম্পাদনা করে আসছেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

দীর্ঘ বক্তৃতায় ব্যক্তিগত জীবন, ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, স্বাধীন বাংলাদেশ, রাষ্ট্র ও সমাজের বিবর্তন, গণতন্ত্র, পুঁজিবাদ, বাম রাজনীতি, জাতীয়তাবাদ, নারীর অবস্থান, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতির নানা দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ– এই তিন রাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা তাঁর জীবনে এসেছে। নাম, পতাকা ও শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে পুঁজিবাদী, আমলাতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী চরিত্রের ধারাবাহিকতা রয়ে গেছে। তাঁর মতে, রাষ্ট্র সাধারণ মানুষের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, অন্যদিকে সমাজ মানুষের আশ্রয় ও লালনের ভূমিকা পালন করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে, জনগণের আন্দোলন ও বিপ্লবী সম্ভাবনাকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগে, যুক্তফ্রন্টের উত্থানকালে, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও এমন প্রবণতা দেখা গেছে। তিনি বলেন, প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল ভোটাভুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকদের সমান অধিকার ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না।
পুঁজিবাদী উন্নয়নের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও সমাজে বৈষম্য, দুর্নীতি, সহিংসতা, নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও সামাজিক অপরাধের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; বিদ্যমান সামাজিক-অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গভীর সংকটের বহিঃপ্রকাশ।
সমাধানের পথ হিসেবে তিনি সামাজিক মালিকানাভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, ‘ব্যক্তিমালিকানার ঐতিহাসিক ভূমিকা শেষ হয়ে এসেছে। মানুষের মুক্তি, উৎপাদনশক্তির পূর্ণ বিকাশ এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে হলে সামাজিক মালিকানার পক্ষে বিশ্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাসানী পরিষদের সভাপতি এ এস এম কামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও আবৃত্তিশিল্পী আফজার হোসেন এবং অধ্যাপক হারুনর রশীদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর আপসহীন অনন্য অবস্থান’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এটি নির্মাণ করেছেন জুবায়ের শাওন।
পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। শুভেচ্ছা জানান বাসদের খালিকুজ্জামান, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি মোহন রায়হানসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার শিল্পীরা এবং বিবর্তন সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করে বরেণ্য এই বুদ্ধিজীবীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

আরও পড়ুন

×