ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনায় রফিকুল হত্যা

১২৮ কিলোমিটার দূরে থেকেও মামলার আসামি কিশোর

১২৮ কিলোমিটার দূরে থেকেও মামলার আসামি কিশোর
×

 ইন্দ্রজিৎ সরকার

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:১২

| প্রিন্ট সংস্করণ

জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যে ডাকা সালিশ বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের জের ধরে রফিকুল ইসলাম নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। দুই বছর আগে নেত্রকোনার পূর্বধলার এ মামলার তদন্তে নেমে হানিফ মিয়া ওরফে বাবু নামে এক কিশোরকে (তখন বয়স ১৬ বছর, বর্তমানে ১৮) গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ। তদন্তে দেখা যায়, হত্যায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ছিলেন ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২৮ কিলোমিটার দূরে। তাই তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সম্প্রতি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এদিকে একই মামলার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী ও সাক্ষী নুরুল হককে থানা পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে ‘আসামি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তদন্তে তাঁরও সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পিবিআই। ‘আইনি বাধ্যবাধকতা’ থাকায় তাঁর নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেওয়া যায়নি।

পিবিআই সূত্র জানায়, নেত্রকোনার পূর্বধলার শিবপুরের বাসিন্দা মোক্তাল হোসেনের সঙ্গে প্রতিবেশীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হত্যাকাণ্ডের ২০ থেকে ২৫ দিন আগে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে মোক্তাল হোসেনের পক্ষ নিয়ে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম। এতে ক্ষিপ্ত হন এই মামলায় অভিযুক্ত দুলাল মিয়াসহ অন্যরা। উভয় পক্ষে বাগ্‌বিতণ্ডার সৃষ্টি হলে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাদের শান্ত করেন। মামলার আসামিরা তাৎক্ষণিক শান্ত হলেও পরে তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে রফিকুল আরেকজনের মোটরসাইকেলে পূর্বধলা বাজারের উদ্দেশে রওনা হন। আগে থেকে সেই খবর জানতে পেরে ঘটনাস্থল মেঘশিমুল পশ্চিমপাড়ায় অবস্থান নেন হত্যায় অভিযুক্তরা। এরপর রফিকুল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে দুলাল মিয়ার নির্দেশে অন্য আসামিরা তাঁকে মোটরসাইকেল থেকে জোর করে নামিয়ে আনেন। এরপর দা, লোহার পাইপ, চাকু ও লাঠিসোটা দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গেলে আসামিরা পালিয়ে যায়। রফিকুলকে বহনকারী মোটরসাইকেলটির চালক নুরুল হক তাঁকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নেওয়া হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে সন্ধ্যায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। 

প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী যখন আসামি
পিবিআইর তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, পূর্বধলা থানা তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাদী পক্ষের সাক্ষী নুরুল হককে অভিযোগপত্রে ‘আসামি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে আপত্তি জানিয়ে বাদী নারাজি আবেদন করলে আদালতে পিবিআইকে মামলাটি অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে এজাহারভুক্ত দুলাল মিয়া, হৃদয় মিয়া, স্বপন মিয়া, আবুল কাশেম ওরফে কাশেম মিয়া, রাজীব মিয়া, আব্দুছ সাত্তার ও আব্দুর রশিদ মিয়া এবং তদন্তে পাওয়া আসামি মিলন মিয়া, বিল্লাল মীর ও রঞ্জিত সাংমার অপরাধ সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে হত্যায় নুরুল হকের কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি, বাদী পক্ষও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। 

আরও পড়ুন

×