ঢাকা শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইন্টারনেট ফিরতেই প্রকাশ পায় বর্বরতা, চলে গণগ্রেপ্তার

ইন্টারনেট ফিরতেই প্রকাশ পায় বর্বরতা, চলে গণগ্রেপ্তার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সারাদেশে পাঁচ দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই ব্রডব্যান্ড সেবা চালু হয়। ছাত্র-জনতার ওপর ১৮ থেকে ২১ জুলাই চার দিনে কী ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, দমন-নিপীড়ন চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ, তা ইন্টারনেট ফিরতেই প্রকাশ প্রায়। প্রকাশ্যে নির্বিচার গুলি করে হত্যা, ছাদে ঝুলে থাকা কিশোরকে গুলি, ফুটপাতে হেঁটে তরুণকে গুলি করে মেরে ফেলা, রাজপথে কুপিয়ে মারা, হেলিকপ্টার থেকে রাবার বুলেট ছোড়ার হাজার হাজার ভিডিও আসতে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে।

তা দেখে স্তব্ধ জনতা আবার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনার সরকারের নারকীয় বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখাতে ওই দিন বেলা ১১টা থেকে চার ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। সরকার সমর্থকরা হত্যাযজ্ঞের চেয়ে মেট্রোরেল, সেতু ভবন, বিটিভি ধ্বংসকে বড় করে দেখাতে শুরু করেন। ছাত্র-জনতাকে আরও কঠোরভাবে দমনের উস্কানি দেন সরকার সমর্থক কিছু বুদ্ধিজীবী, ব্যবসায়ী, আমলা, শিল্পী, সাংবাদিক। দুষ্কৃতকারীদের দমনের নামে চলে ঢালাও গ্রেপ্তার। ছাত্র পেলেই ধরা হয় বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে। 

১৯ জুলাই থেকে টানা বন্ধের পর সরকারি নির্বাহী আদেশে ২৪ জুলাই বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংক খোলা রাখা হয়। কারফিউ শিথিলের সুযোগে জরুরি প্রয়োজনে মানুষ রাস্তায় বের হলেও গণপরিবহনের সংকট ছিল তীব্র। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রবেশমুখে, বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী ও সাভার এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করে। যাত্রাবাড়ী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের থেমে থেমে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়।

২৪ ঘণ্টায় ব্যাপক গ্রেপ্তার, সংখ্যা ৪ হাজার পার
সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২৪ জুলাই ঢাকাসহ সারাদেশে নতুন করে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেদিন শুধু ঢাকাতেই ৬৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র দেখে ভাঙচুরকারীদের শনাক্ত করে এই ‘চিরুনি অভিযান’ চালানো হয় বলে দাবি করে পুলিশ। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকাংশই ছিলেন বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থী। 

সমন্বয়কদের সন্ধান ও মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি
এদিকে, ১৯ জুলাই থেকে নিখোঁজ থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম তিন প্রধান সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, আবু বাকের মজুমদার ও রিফাত রশীদের সন্ধান মেলে ২৪ জুলাই। চোখ বাঁধা অবস্থায় তাদের অজ্ঞাত স্থানে ফেলে যাওয়া হয়। 
অন্যদিকে, চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও 
চারজনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন হাসপাতাল ও গণমাধ্যমের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘাতে নিহতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে যায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
২৪ জুলাই সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় বসেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনা যেমন– বিটিভি ভবন, ডেটা সেন্টার ও মেট্রোরেল স্টেশনে ক্ষয়ক্ষতির তীব্র নিন্দা জানান এবং এর পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেন।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
ইন্টারনেট বন্ধ এবং বিক্ষোভ দমনে শান্তিরক্ষী বাহিনীর লোগো সংবলিত যানের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ। সাধারণ নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা।
ছাত্র-জনতার চার দফা জরুরি দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বেগবান করার আলটিমেটাম বহাল রাখেন শিক্ষার্থীরা। 

আরও পড়ুন

×