নকল পণ্যের কারবার যেন নবীউল্লাহর নেশা
প্রতীকী ছবি।
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২২ | ১২:৫২ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২২ | ১২:৫২
নকল পণ্যের কারবার যেন নেশার মতো হাজি নবীউল্লাহর কাছে। যেখানেই নকল ও ভেজাল পণ্য পাওয়া যায়, সেখানেই তাঁর সম্পৃক্ততা মেলে। গত সাত মাসে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এমন তিনটি অভিযানে তাঁর জড়িত থাকার তথ্য উঠে আসে। আগের দুই দফায় কৌশলে গ্রেপ্তার এড়ান তিনি। তবে এবার তিনি নকল প্রসাধন তৈরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। নকল-ভেজালের কারবার সম্পর্কে আরও তথ্য পেতে তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি।
ডিবির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, নিরক্ষর নবীউল্লাহ বেশি টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কখনও নিচতলা, আবার কখনও ছাদে নকল পণ্যের কারখানা গড়ে তুলতেন। ভাতের মাড়, আটা-ময়দা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও পরিত্যক্ত প্রসাধনী, কিছু রাসায়নিক, রং এবং সুগন্ধি ব্যবহার করে তৈরি করতেন ক্ষতিকর প্রসাধনসামগ্রী। পরে চকবাজার থেকে সারাদেশের বিভিন্ন সুপারশপ, গ্রোসারিশপ, সেলুন ও বিউটি পার্লারে তাঁর নকল প্রসাধন ছড়িয়ে পড়ত।
ডিবি সূত্র জানায়, ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল গত ১৩ মার্চ চকবাজারের বংশীবাজার এলাকার একটি ভবনের ষষ্ঠতলায় অভিযান চালায়। সেখানে দেশ-বিদেশের নামিদামি ব্র্যান্ডের নকল বেবি লোশন, বেবি সোপ, বেবি অয়েলসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার পণ্য পাওয়া যায়। তখন দু'জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক ছিলেন কারখানাটির মালিক হাজি নবীউল্লাহ। এরপর গত ১৬ আগস্ট ডিবি লালবাগ বিভাগের একাধিক টিম চকবাজারের সোয়ারীঘাট রোডের একটি কারখানায় অভিযান চালায়। এ সময় জনসন বেবি সোপ, মুভ পেইন রিলিফ স্পেশালিস্ট, লরেলস ফেসওয়াশসহ নানা রকম নকল সামগ্রী পাওয়া যায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারখানাটির মালিকও নবীউল্লাহ। অভিযানের সময় বাইরে থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে মামলার এজাহারে তাঁকে অন্যতম আসামি করা হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় তিনি জামিন পান। ১০ দিনের মাথায় গত ৮ অক্টোবর ডিবির একই টিম নকল প্রসাধন তৈরির কারখানা থেকে নবীউল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর সঙ্গে ধরা পড়েন কারখানার ম্যানেজার, কারিগর ও কর্মচারী। চকবাজারের বড় কাটারায় তাঁর ওই কারখানায় ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে নকল প্রসাধন তৈরি হচ্ছিল।
- বিষয় :
- ভেজাল পণ্য
- ডিবি
- নকল পণ্য
- ঢাকা
