ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ

ঢাকা ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা
×

ব্যাগ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন শিক্ষার্থীরা- সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:০৬ | আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২০ | ০৯:১০

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার পর মঙ্গলবারই রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঢাকায় অবস্থানরত দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা। সোমবার মন্ত্রিসভায় সারা দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুই সপ্তাহের জন্য ছুটি ঘোষণার সিদ্ধান্তের পরই কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঘরমুখী হতে শুরু করেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর লঞ্চ, বাস ও ট্রেন স্টেশনগুলোতেও দেখা গেছে ঘরমুখী শিক্ষার্থীদের ভিড়। এসব যানবাহনের বেশিরভাগ যাত্রীই ছিলেন শিক্ষার্থী।

তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা আগেভাগেই ঢাকা ছাড়ছেন। যারা ঢাকা ছাড়ছেন, তাদের বেশিরভাগই ছাত্রাবাস বা মেসে গাদাগাদি করে থাকেন। ওই রকম পরিবেশে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। এ জন্যই তারা ঘরে ফিরে যাচ্ছেন।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আন্তনগর ট্রেনের টিকিট কাউন্টারগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভিড়। রাজশাহীগামী সিল্কসিটি ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইউসুফ আলী জানান, পুরান ঢাকার একটি মেসে তারা জনাদশেক গাদাগাদি করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়ায় ঢাকায় কোনো কাজ নেই। এ জন্যই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। এতে করোনা থেকেও রেহাই পাওয়া যাবে বলে তার বিশ্বাস।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুরাদ হোসেন জানান, যারা টিউশনি করে তাদের অনেকে হলে থেকে যাচ্ছেন। কিন্তু তার কোন টিউশনি নেই। এ জন্য তিনি আগেভাগেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলবে তা বলা যাচ্ছে না। যখন খুলবে, তখন ফিরে আসবেন। শিক্ষকরাও বলেছেন- যাদের ঢাকায় কোন কাজ নেই তারা যেন বাড়িতে চলে যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলন জানান, তার বাড়ি যশোরে। হানিফ পরিবহনের একটি টিকেট কেটেছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য। যত তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছানো যায়, ততই ভাল। কারণ এখন জাতীয় সমস্যায় পরিণত হয়েছে করোনা। এছাড়া ঢাকা শহরে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকি বেশি। এ জন্য তাড়াতাড়িই চলে যাচ্ছেন।

জানা যায়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বেশ কিছু দিন ধরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গিয়েছিল। কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা বন্ধের দাবিতে আন্দোলনও শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও এ দাবি ওঠে। এ অবস্থায় গত সোমবার আগামী ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। এরপরই ঢাকায় পড়াশোনা করতে আসা দেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীরা ঘরে ফিরতে শুরু করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, করোনাভাইরাসেরর বিস্তার ঠেকাতে গত সোমবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা আসলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধের কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় কেউ বসে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে গিয়ে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরছেন এবং অনেকেই ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকে অনেক শিক্ষার্থীকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হতে দেখা গেছে। এ সময় তাদের মাঝে করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। যারা এখনও বাড়িতে যাননি তারাও দ্রুত বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দেখা হলেই একজন আরেক জনকে জিজ্ঞাসা করছেন কে কবে বাড়িতে যাবেন। সকলেই তাদের বন্ধু বান্ধবদের দ্রুত বাড়িতে যাওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন। হলের ক্যান্টিন, রিডিং রুমসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের আনাগোনো কমে গেছে। এমনকি বহিরাগতরাও আসেননি তেমন।

এ বিষয়ে কবি জসীমউদ্দীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হেদায়েতুল সরকার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে করোনার প্রভাব পড়েছে। নিজের সুস্থতা এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমার বাসায় যাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

শামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রাইয়ান-ই-জান্নাত বলেন, আমাদের ক্যাম্পাস বা হল করোনা ছড়ানোর জন্য উপযুক্ত জায়গা। নিজেকে নিরাপদ রাখা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি দরকার।

স্যার এ এফ রহমান হলের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামান বলেন, আগে জীবন, পরে পরীক্ষা। আমাদের হলগুলোর যে অবস্থা তাতে কেউ করোনায় আক্রান্ত হলে দ্রুত সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। করোনায় জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হলেও হলে একরুমে থাকছে ২৫-৩০ জন। এটা তো অনেক বড় জনসমাগম।

আরও পড়ুন

×