সিনথিয়ার বাসায় যাতায়াত ছিল আকাশের, স্বামী তুহিনের জামিন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২০ | ১১:০১
গৃহবধূ কুসবা জিনাত সিনথিয়া খুন হওয়ার আগে একাধিকবার আলমগীর ওরফে আকাশ (২৮) তার বাসায় গেছেন। হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেলেও তিনি ওই বাসায় যান। সিনথিয়া তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সিনথিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আকাশ। ঘরে লাশ রেখে বেরিয়ে পড়েন। পরে রাইড শেয়ারের মোটরসাইকেলে এলাকা ত্যাগ করেন। সিনথিয়ার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। পুলিশের তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
তবে নিহত সিনথিয়ার বাবার বাড়ির লোকজনের অভিযোগ- সিনথিয়ার স্বামী তুহিন ভূঁইয়া এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। স্ত্রী হত্যা মামলায় তুহিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১১ মার্চ তিনি জামিনে বের হয়েছেন।
তুহিনের মামাতো বোন সিনথিয়া। পারিবারিকভাবে ১০ বছর আগে বিয়ে হয় তাদের। রাজধানীর কদমতলীর জনতাবাগে বসবাস করতেন তারা। কোনো সন্তান নেই তাদের। গত ৮ ফেব্রুয়ারি সিনথিয়া খুন হন বাসায়।
স্ত্রী হত্যায় জড়িত নয় বলে দাবি করে তুহিন সমকালকে বলেন, স্ত্রী সিনথিয়ার সঙ্গে তার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। তিনি কেন স্ত্রীকে হত্যা করবেন? শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ তার। তুহিন জানান, তিনি গুলিস্তানের একটি মার্কেটে মোবাইল ফোনের এক্সেসরিজের ব্যবসা করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে স্ত্রী সিনথিয়াকে বাসায় রেখে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যান। বিকেল ৩টার দিকে তিনি সিনথিয়াকে ফোন করে খোঁজ-খবর নেন। রাত পৌনে ৯টায় তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে বাসার জন্য মাল্টা কেনেন। গুলিস্তান থেকে বাসে ওঠেন, নামেন রায়েরবাগে। নেমেই স্ত্রীকে ফোন দেন কিছু কেনাকাটা করতে হবে কিনা জানতে। ফোনের সুইচ বন্ধ পান। বাসার কাছে গিয়ে ফের ফোন দিয়েও একইভাবে বন্ধ পান। চতুর্থতলার বাসায় ওঠেন। দরজা ভেড়ানো ছিল। অটোলকের দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল না। তিনি দরজায় টোকা দিয়ে সিনথিয়াকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে জোরে ধাক্কা দেন। দরজা খুলে যায়। বাসায় ঢুকে খাটে লাশ দেখে চিৎকার দিয়ে ওঠেন। ভবনের অন্য বাসিন্দারা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আসেন সিনথিয়ার মা রুবিয়া খানসহ স্বজন ও কদমতলী থানা পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন থানা পুলিশের সামনেই সিনথিয়ার মা রুবিয়া খান অভিযোগ করেন, তুহিন এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তুহিনকে আটক করা হয়। পরে তুহিনসহ কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন রুবিয়া খান। ওই মামলায় তুহিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় থানা পুলিশ। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পূর্ব বিভাগ। ওই বাড়িতে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ডিবি পুলিশ। ঘটনার দিন বিকেলে অচেনা এক যুবককে (আকাশ) ভবনে ঢোকার দৃশ্যও আছে তাতে। তুহিন আসার অনেক আগেই যুবক বেরিয়ে যায়। যুবকের সন্ধানে নামে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। সিনথিয়ার মোবাইল ফোনে লিংক ধরে যুবককে শনাক্ত করা হয়, তার নাম আলমগীর ওরফে আকাশ। ডিবি গ্রেপ্তার করে তাকে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সিনথিয়া হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। বর্তমানে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব ডিবি পূর্ব বিভাগের ওপর।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, 'সিনথিয়া হত্যাকাণ্ডে আকাশের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। সিনথিয়ার বাসায় যাতায়াত ছিল তার। খুন হওয়ার আগের ২ মাসে ওই বাসায় আকাশের ৬ বার যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।'
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেসবুকের মাধ্যমে সিনথিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় আকাশের। আকাশ বিবাহিত। এক সন্তানের জনক। পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেম এবং অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। আকাশের বাবার নাম আইয়ুব আলী। বাসা পুরান ঢাকার বংশালের আগামসিহ লেনে।
