স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকেই মেডিকেলের প্রশ্নপত্র ফাঁস
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২০ | ১৩:০৮
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত রোব ও সোমবার রাজধানীর মিরপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে তারা মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত। গ্রেপ্তাররা হলেন-চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভুঁইয়া ওরফে মুন্নু, চক্রের সদস্য জাকির হোসেন ওরফে দিপু, পারভেজ খান, সানোয়ার হোসেন ও মোহাইমিনুল ওরফে বাঁধন। জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক এবং পারভেজের কাছ থেকে ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করেছে সিআইডি। প্রশ্নপত্র বিক্রি করে তারা এসব টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি প্রেসে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সদস্যদের আত্মীয় প্রেসে কর্মরত আছে এবং প্রেসের কর্মচারির সঙ্গে চক্রের যোগাযোগ ছিল। কর্মচারির মাধ্যমে প্রেস থেকে প্রশ্ন এনে ফাঁস করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বারবার মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ছে। গ্রেপ্তার হওয়া চক্রের প্রধান জসিম উদ্দিন ভুইয়ার খালাত ভাই আবদুস সালাম প্রেসের মেশিনম্যান। সালাম ও জসিম প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্র গড়ে তুলেছেন দেশব্যাপি। সালাম ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র এনে জসিমের হাতে তুলে দিতেন। জসিম এই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিতেন। টাকার ভাগ পেতেন সালাম। দেশব্যাপি এ চক্রের অর্ধশত সদস্য রয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন তারা। এ ছাড়া অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের মদদে অনেক বছর ধরেই প্রশ্ন ফাঁস করে আসছেন মেশিনম্যান সালাম। প্রশ্নপত্র ফাঁস করে জসিম কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ঢাকায় দুটি বাড়ি, তিনটি গাড়িসহ তার অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে সিআইডি।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির সাইবার অপরাধ বিভাগের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুমন কুমার দাস বলেন, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সিআইডি তদন্তে নেমে ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের মধ্যে ৪৬ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। প্রশ্ন ফাঁস মামলায় ১২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সিআইডির অনুসন্ধান অব্যাহত থাকে। গত রোববার চক্রের সদস্য এস এম সানোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সানোয়ার মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে জসিম উদ্দিন, পারভেজ খান, জাকির হোসেন ও মোহাইমিনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার মিরপুর থানায় মামলা করে সিআইডি। ১৪ জন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাত ১৫০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। সানোয়ার ও মাহাইমিনুল গত বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর ৩ জনের আদালত সাতদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ডিআইজি শাহ আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।