ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কার্যবিবরণী প্রকাশ করল ডাকসু, ছারপোকা নিধন ও পরিচ্ছন্নতায় খরচ ৩২ লাখ টাকা

কার্যবিবরণী প্রকাশ করল ডাকসু, ছারপোকা নিধন ও পরিচ্ছন্নতায় খরচ ৩২ লাখ টাকা
×

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৪ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪১

দায়িত্বকালীন এক বছরের কার্যক্রমের বিবরণী প্রকাশ করল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। বিবরণীতে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা, গবেষণা ও শিক্ষা কার্যক্রমসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম কার্যক্রম ও জবাবদিহি প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সম্পূর্ণ কার্যক্রমের অডিট প্রকাশ করা না হলেও প্রকাশিত পেজেন্টেশনে কয়েকটি কাজে খরচের অংক দেখা যায়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত প্রেজেন্টেশনে উল্লেখ করা হয়, বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতায় ব্যয় হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। এ সংক্রান্ত স্লাইডে উল্লেখ করা হয়- ;হলে হলে ছারপোকা নিধন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের কষ্ট অনেকটাই কমেছে।'

এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে খরচ হয়েছে ৩ কোটি টাকা, কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কারে খরচ ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম বানাতে খরচ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। ঝুঁকিপূর্ণ হল সংস্কারে ৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা আদায়ের কথা জানানো হয়েছে প্রেজেন্টেশনে। 

সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শিত স্লাইডের একটির স্ক্রিনশট

১৮টি হলে ছারপোকা দমন ও পরিচ্ছন্নতায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয় প্রসঙ্গে ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এম এম আল মিনহাজ বলেন, 'আমরা বেশ কয়েকটি ফার্মের সঙ্গে কথা বলেছি। অনেকে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকাও চেয়েছিল, আবার অনেকে ৩২ লাখের কম বলেছিল। আমরা যে ফার্ম দিয়ে কাজ করিয়েছি তাদের রিভিউ ভালো পেয়েছি বলে তাদের দিয়ে করিয়েছি। তিনি বলেন, '১৮টি হলের প্রতিটি রুমে গিয়ে ওষুধ দেওয়া হয়েছে এবং এ জন্যই এত টাকা লেগেছে।'

ভিপি সাদিক কায়েম সমকালকে জানিয়েছেন, অডিটের কাজ চলছে, খরচের বিস্তারিত কিছুদিনের মধ্যে জানানো হবে।

সমাজসেবা সম্পাদকের ৩৫ কোটি টাকার কাজের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ডাকসু যে কাজ করেছে তা ৩৫ কোটি টাকার চেয়ে অনেক বেশি। তবে প্রশাসনের বাধার কারণে আমরা অনেক কাজ করতে পারিনি।' 

সাদিক কায়েম বলেন, 'ডাকসুর জন্য নির্ধারিত বাজেট এখন পর্যন্ত প্রশাসন দেয়নি। পুরো সময় প্রশাসন বিমাতার মতো আচরণ করেছে। তবে শত অসহযোগিতা সত্ত্বেও এক বছরে আবাসন, পরিবহন, হলে খাবারের মান ও স্বাস্থ্য গবেষণার মতো ডাকসু কমিটি হাজারের বেশি কাজ করেছে।'

শিক্ষক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট একাডেমিক প্রক্রিয়ায় উত্থাপিত হলেও প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ডাকসু নিজ উদ্যোগে ‘DU Teachers’ Evaluation’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করে।

কার্যবিবরণী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ, হলভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রশিক্ষণ এবং বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। গবেষণা বিষয়ে কর্মশালা, গবেষণা প্রস্তাবনা তৈরির প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক সেশন এবং শিক্ষা এক্সপোসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়। পরিবহন খাতে শনিবার বাস সার্ভিস চালু, বিভিন্ন রুটে সন্ধ্যার ট্রিপ, নারী হলগুলোর জন্য বাস এবং সাপ্তাহিক ঢাকা-কুমিল্লা বাস সার্ভিস চালুর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও রুট বৃদ্ধির উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরা হয়।

কার্যক্রমের বিরবরণ নিয়ে ‘খতিয়ান’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছে ডাকসু। বইয়ের একটি বড় অংশে বাস্তবায়ন না হওয়া বা আটকে থাকা বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে ।

ডাকসুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ, সার্টিফিকেশন সহায়তা, ইনোভেশন হাব ও চাকরি মেলার মতো ছয়টি উদ্যোগ আটকে রয়েছে।

এ ছাড়া মাঠ সংস্কার ও ডিজিটাল সেবা, হলের ভর্তুকি মূল্যে খাবার, ডাকসু ক্যান্টিন সংস্কার, পুকুরপাড় সৌন্দর্যায়ন, ওয়াকওয়ে ও আলোকসজ্জাসহ স্থানীয়সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাজী মোতাহার হোসেন ভবনের ক্যান্টিন, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিন, মোবাইল টয়লেট, নতুন যানবাহন সংগ্রহ এবং বিভিন্ন হলের অবকাঠামো উন্নয়নসহ আরও কয়েকটি উদ্যোগ আটকে থাকার কথা প্রতিবেদনে রয়েছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান বিতরণ, নারী শিক্ষার্থীদের জিমনেসিয়াম চালু এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কার নিয়ে অসন্তোষের কথা বইয়ে উল্লেখ রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×