ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

পুরনো বাসে নতুন পদ্ধতিতে কোম্পানিভিত্তিক চলাচল চালু

ভিন্ন রঙে চালু হবে আরও ২৬ রুটে

পুরনো বাসে নতুন পদ্ধতিতে কোম্পানিভিত্তিক চলাচল চালু
×
×

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চলাচল কার্যক্রম উদ্বোধন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯:৫৫

বাস রুট রেশনালাইজেশনের আওতায় ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে (কোম্পানিভিত্তিক) বাস চালু করা হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। রোববার ছয়টি রুটে নতুন পদ্ধতিতে এই বাস সেবা চালু করা হয়। যদিও আগে থেকে চলা পুরনো বাস দিয়ে কোম্পানিভিত্তিক এই পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। বেলা ১১টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী শামসুর রহমান বিশ্বাস শিমুল। এই শ্রমিক নেতা পাবনা-৫ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য। 

ঢাকার বিশৃঙ্খল বাস রুট সুশৃঙ্খল করতে ২০১৫ সালে রেশনালাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১১ বছরেও তা চালু করা যায়নি পরিবহন মালিক শ্রমিকদের বিরোধিতায়। ২০২১ সালে কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর থেকে যাত্রাবাড়ীর সাইনবোর্ড পর্যন্ত রুটে কোম্পানিভিত্তিক চালু হলেও, তা বন্ধ হয়ে যায় লোকসানে। 

ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে  একটি রুটে একটি নির্দিষ্ট কোম্পানির বাস চলে। এ জন্য বর্তমানে যেসব কোম্পানির বাস চলছে সেগুলোকে একীভূত করে একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। ঢাকায় অনুমোদিত রুটের সংখ্যা ৪১৮। সক্রিয় রয়েছে ৯৮টি। একই রুটে ৮-১০টি কোম্পানির বাস চলে। বাসে বাসে প্রতিযোগিতায় যানজট, সড়ক দখল এবং বিশৃঙ্খলা হয়। তাই রেশনালাইজেশনের (পুনর্বিন্যাস) মাধ্যমে রুটের সংখ্যা কমিয়ে ৩২টি করা হবে। গত ৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয় ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি চালু করতে হবে। 

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, বাকি ২৬টি রুটে এই সময়ের মধ্যে কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। প্রত্যেক রুটের বাসের রঙে হবে। কায়েমি শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ায় অতীতের সরকারগুলো চাইলেও কোম্পানিভিত্তিক বাস চালু করা যায়নি। প্রথম দিনে পুরনো বাস দিয়ে চালু করা হয় নতুন পদ্ধতিতে। মালিকরা অনুষ্ঠানে জানান, ধীরে ধীরে নতুন বাস প্রতিস্থাপন করা হবে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনে মিরপুর, গাজীপুর থেকে চলাচল করা বাসগুলো প্রথম দিনেই দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। 

রোববার চালু হওয়া রুটগুলো হচ্ছে—গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার আজিমপুর, মিরপুর থেকে কেরাণীগঞ্জ, ঘাটারচর থেকে ডেমরা, ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর, ঘাটারচর থেকে ধউর ও টঙ্গী থেকে আজিমপুর। এছাড়া মিরপুর-১ থেকে কচুক্ষেত, সৈনিক ক্লাব, জাহাঙ্গীর গেইট, আগারগাঁও হয়ে আনসার ক্যাম্প রুটে চক্রাকার বাস চালু করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিমুল বিশ্বাস বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে চালু হওয়া সাতটি রুটের কোনো কোনোটিতে ৩০০টি করে বাস রয়েছে। শুধু ফটোসেশন করলাম আর পরে বন্ধ হয়ে যাবে— এমনটা হবে না। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নিয়ে সবাইকে জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। 

সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণে অল্প কিছু মানুষের লাভ হয় বলেও মন্তব্য করেন শিমুল বিশ্বাস। তিনি বলেছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা টেসলা বাহিনী এবং রিকশা গোটা ঢাকা দখল করে রেখেছে। গরিব মানুষের জন্য এগুলোর প্রয়োজন থাকলেও যানজটে আমাদের কত শ্রমঘণ্টা, সময় ও অর্থ নষ্ট হচ্ছে, তার হিসাব করলে মাথা ব্যথা হয়ে যাবে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, সড়কে অসুস্থ প্রতিযোগিতা ও দুর্ঘটনা রোধে ঢাকার ৯৮টি বাস রুটকে ৩২টি মূল রুটে নামিয়ে আনা হয়েছে, যার মধ্যে আজ কম-বেশি ১৮টি কোম্পানির বাসকে ছয়টি কোম্পানির অধীনে এনে ছয়টি রুট চালু করা হলো। নির্ধারিত ২৫টি চক্রাকার রুটের মধ্যে পাঁচটি অনুমোদিত হয়েছে। মিরপুর-১ থেকে আনসার ক্যাম্প রুটে এসি বাস চালু হবে। বাকি চারটি রুটের জন্য ২৭ আসনের মিনিবাস দুই মাসের মধ্যে চালু হবে।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বলেন, ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে চালকরা নির্দিষ্ট বেতনে বাস চালাবেন।  দ্রুতই ৩২টি রুটের বাসে আলাদা রং, রুট নম্বর ও ডিজিটাল বোর্ড যুক্ত করা হবে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, এবার পাইলট প্রজেক্ট নয়,  চূড়ান্ত বাস্তবায়ন হিসেবে ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে বাস চালু হয়েছে। নতুন উদ্যোগের বিরোধিতায় যারা সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে  ট্রাফিক পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। 

ডিটিসিএ এ আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি এম এ বাতেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং পরিবহন খাতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

আরও পড়ুন

×