ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

বিশুদ্ধতার সন্ধানে

নগরে কৃষকের বাজার

নগরে কৃষকের বাজার
×

জয়নাল আবেদীন

প্রকাশ: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:২১

রাজধানীর বাসিন্দাদের সবুজ গ্রামের শীতকালীন সবজির স্বাদ দিচ্ছে 'কৃষকের বাজার'। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর সেচ ভবন প্রাঙ্গণে গত শুক্রবার এ বাজার উদ্বোধন করা হয়। সেচ ভবন প্রাঙ্গণে থরে থরে সাজানো এই সবজি যেন সবুজের সমারোহ।

উদ্বোধনের পর বাজারটিতে ক্রেতার ঢল নামলেও দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়াতেই ক্রেতার সংখ্যা কমছে। মূলত সাধারণ বাজারের তুলনায় সবজির দর কিছুটা বেশি হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতা নাখোশ। তবে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দর পুনর্নির্ধারণের জন্য চাষিদের অনুরোধ জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পাশাপাশি বাজারের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপাতত প্রতি শুক্র ও শনিবার নিরাপদ খাদ্যের এই বাজার বসছে। চাহিদার ভিত্তিতে এর বিস্তৃতি হতে পারে। গতকাল শুক্রবার সকালে কৃষকের বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিরাপদ খাদ্যে ভোক্তাদের ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। মধ্যস্বত্বভোগী তৎপরতা না থাকায় খুশি বিক্রেতারাও। কোনো হাত না ঘুরে মাঠ থেকে সরাসরি ভোক্তার হাতে সবজি তুলে দিয়ে ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন বলেও জানান তারা।

তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হোসেন, ধানমন্ডির তরুণ ইমদাদুল হক, মিরপুরের বাসিন্দা মালিহা ইসলাম নির্ভেজাল সবজি কেনার জন্য যান কৃষকের বাজারে। বাজার ঘুরে তারা বলেন, স্থানীয় অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে দাম একটু বেশি। যেহেতু এখানে কৃষকরা সরাসরি বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন, দাম আরেকটু কম হলেও আশা করি তাদের ক্ষতি হবে না। তবে তারা নিরাপদ সবজি সরবরাহ করছেন, এটা খুবই ভালো উদ্যোগ।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কৃষক শের আলী বলেন, কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি। শুধু জৈব সার ব্যবহার করে সব সবজি চাষ করা হয়। ফলে এসব খাদ্য একদম নিরাপদ থাকে। তিনি লাউ, মিষ্টি কুমড়া এবং শিম নিয়ে এসেছেন। বাজারে ক্রেতা কম হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি এই কৃষক।

সাভার থেকে আসা চাষি নজরুল ইসলাম বলেন, অনেক ক্রেতা মূল্য নিয়ে কথা বলছেন। তবে আমরা যে উপায়ে চাষাবাদ করি, তাতে দর একটু বেশি হবেই। নিরাপদ খাদ্য পেতে হলে অন্য বাজারের চেয়ে কিছুটা বেশি অর্থ গুনতেই হবে।

তবে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজারদর নির্ধারণে এই চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) চণ্ডীদাস কুণ্ডু। তিনি সমকালকে বলেন, এখানে সবকিছুই আয়োজন করে দিয়েছে সরকার।



চাষিদের কোনো দোকান ভাড়া দিতে হচ্ছে না। মধ্যস্বত্বভোগীর খপ্পরে পড়তে হয় না। তারা মাঠ থেকে সবজি তোলেন, গাড়িতে উঠিয়ে সোজা বাজারে আসেন। সে ক্ষেত্রে দরটা একটু কমানো যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ভোক্তার খাদ্য নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় রেখে তালিকাভুক্ত চাষিদেরই এখানে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। মানিকগঞ্জ, সাভার, ধামরাই ও মুন্সীগঞ্জের চাষিরা এ বাজারে আসছেন। নরসিংদী থেকেও কয়েকজন চাষি পরে যোগ দিতে পারেন। তাদের তালিকাভুক্ত প্রায় আড়াইশ' চাষির মধ্য থেকে বর্তমানে ২০ থেকে ২৫ জন রাজধানীর নিরাপদ সবজির বাজারে সুযোগ পেয়েছেন।

চণ্ডীদাস বলেন, কৃষকের বাজারে ঢুকতে একটাই শর্ত- সবজি হতে হবে নিরাপদ। তবে বাজার নিয়ে প্রচার কম। এ জন্য কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক ক্রেতা নেই। ক্রেতা আকর্ষণে সামনে ব্যাপক প্রচার চালানো হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) মিলে এ বাজার চালু করেছে। এ ছাড়া এ বাজারে সত্যিকার অর্থেই কীটনাশকমুক্ত সবজি মিলছে কি-না পরীক্ষা করে দেখছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভ্রাম্যমাণ ল্যাব নিয়ে এসে সবজি পরীক্ষা করছে।

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে মাঝারি সাইজের প্রতিটি লাউ ৪৫ থেকে ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫ থেকে ৫০ টাকা, পালং শাকের আঁটি ২০ থেকে ৩০ টাকা, মুলা শাক আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকা, গোল বেগুন ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, পটোল ৪০ টাকা কেজি। এ ছাড়া প্রতি পিস ফুলকপি ৩৫ থেকে ৪৫ ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

চাষিরা বলছেন, নিম তেলসহ জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে সবজি চাষ করা হয়। রাসায়নিক এড়িয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে চাষাবাদে ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তবু ভোক্তার ঘরে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দিতে পারাই কৃষকের আনন্দ।

আরও পড়ুন

×