ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নাগরিক সমাবেশে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান

মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারীরা নিরাপদ নন

মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারীরা নিরাপদ নন
×

সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান- সমকাল

বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩৮

বর্তমানে যারা মুক্তবুদ্ধি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করেন তারা এ দেশে নিরাপদ নন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, আজকে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি অনেক ক্ষেত্রে অধিক শক্তি সঞ্চয় করছে। এটিই আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি ব্যর্থতা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সারওয়ার আলীকে সপরিবারে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এই সমাবেশের আয়োজন করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস এবং আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদের পরিচালনায় সমাবেশে ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আজিজুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী খুশী কবির, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সহসভাপতি রেখা চৌধুরী, ঐক্য ন্যাপের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনর রশিদ, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। পরে তার অনুপস্থিতিতে সভাপতিত্ব করেন আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী। সংগঠনটির পক্ষে সমাবেশের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, প্রগতিশীল চিন্তক ডা. সারওয়ার আলীর ওপর হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আক্রমণকারীরা যেসব জিনিসপত্র ফেলে গেছে, তা থেকে আমাদের মনে বিরূপ ধারণা হয়। জঙ্গিরা যেভাবে বিভিন্ন মুক্তবুদ্ধির মানুষকে হত্যা করেছে, এটাও সে রকম। হত্যাচেষ্টার যে তদন্ত হচ্ছে তাতে ব্যক্তিগত আক্রোশ খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটি আমাদের ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে। পুলিশ প্রশাসনের প্রতি দাবি করব, সারওয়ার আলী হত্যাচেষ্টার পেছনে জঙ্গিদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা আপনারা খতিয়ে দেখবেন এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ডা. সারওয়ার আলী একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্ববাসীকে জাগ্রত করতে লড়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত ব্যক্তিটির ওপরই হত্যাচেষ্টা মুক্তিযুদ্ধের ওপর আক্রমণের শামিল। একের পর এক দেশবরেণ্য ব্যক্তির ওপর একই পদ্ধতিতে আক্রমণ হয়েছে। এমন এক ব্যক্তির ওপর আক্রমণের আট দিন পেরিয়ে গেলেও রাষ্ট্রকে বিচলিত দেখা গেল না। মুক্তিযুদ্ধের কারিগররা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হবে, অথচ মৌখিক মুক্তিযুদ্ধের চর্চা হবে আর আদর্শিক মুক্তিযুদ্ধ দূরীভূত হবে- এমন বৈপরীত্য নিয়ে বাংলাদেশ চলতে পারে না।

সুলতানা কামাল বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক চর্চা চলছে তা ক্রমেই মুক্তিযুদ্ধের শক্তির বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়নে যারা কাজ করছে, তাদের ওপরই ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ আসছে। অথচ এর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। দেশটা কোনো বিশেষ দল বা ব্যক্তি স্বাধীন করেনি। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটা জনযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আলোকে দেশ পরিচালনা করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম কাজ হবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

তিনি বলেন, আমাদের ওপর আক্রমণ আরও হতে পারে, ভয় দেখানোর চেষ্টা চলতে পারে। তবু আমরা পিছপা হব না।

খুশী কবির বলেন, যে জাতি মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে, সে জাতি কারও কাছে মাথানত করবে না। ধর্মের নামে মুক্তচিন্তার ওপর হামলা এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। দুস্কৃতকারীরা সারওয়ার আলীকে হত্যা করতে সক্ষম হলে এ দেশের জন্য বিরাট ক্ষতি হয়ে যেত। যেমনটা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং পরে এ দেশের মুক্তমনা মানুষদের হত্যার মাধ্যমে।

ঘোষণাপত্রে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দুটি দাবি জানানো হয়। এগুলো হলো- অবিলম্বে বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনী নিয়োগ করে ডা. সারওয়ার আলীর হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার ও বিচার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চা থামাতে সরকারকে বঙ্গবন্ধুর ইহজাগতিক ধর্মনিরপেক্ষতা চর্চার আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বহুমুখী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া।

আরও পড়ুন

×