ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

নব আনন্দে জাগো

নব আনন্দে জাগো
×

ইয়ারা যোহারীন

প্রকাশ: ০১ মে ২০২০ | ১৩:২০ | আপডেট: ০১ মে ২০২০ | ১৪:১০

প্রতিটি নতুন সকাল নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে। এক মাসের গৃহে থাকা জীবনে যারা হাঁপিয়ে উঠেছেন আশাহত হবেন না। চাইলেই আপনি আজ থেকে বৈচিত্র্য আনতে পারেন ঘরকুনো জীবনে। সব হতাশা, সংশয় ভুলে জীবনকে নতুন করে সাজাতে চায় সবাই। সবকিছুর পরও বেঁচে থেকে এক নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভোর গৃহবন্দী প্রাণগুলো। অদভূত প্রতিযোগিতার অস্থিরতা গ্রাস করছিল আমাদের। বড্ড বেশি লোক দেখানো হুজুগে কাজে ব্যস্ত ছিল সোস্যাল মিডিয়ায় আসক্ত বেশিরভাগ মানুষ। কী নিয়ে ব্যস্ত সেটা প্রকাশ করার বাস্তবতা ধাবিত করেছে হতাশার মায়াজালে। বাইরের আনন্দময় জীবন, ভ্রমণ, প্রিয়জনের সাক্ষাত- সব কিছু ম্লান করে দিয়েছে একটি ভাইরাস। তার কাছ থেকে বাঁচতে এই বিচ্ছিন্নতা আমাদের শেখাচ্ছে বেঁচে থাকার নতুন মন্ত্র। নিজের কাজ নিজে করা কিংবা পরিবারের সবার সাথে দীর্ঘ সময় ঘরে থাকার মাধ্যমে আরও একবার আবেগপ্রবণ জাতি যেন স্বাদ পাচ্ছে ভালবাসার।

আমরা অসামাজিক হয়ে যাইনি; কিন্তু সামাজিকতার মাত্রা অনুভব করতে পারছি। কর্মব্যস্ত অনেককেই বলতে শোনা যেত 'ইশ! যদি নিজের জন্য একটু সময় পেতাম।' সাবধানতার এ সময়টা যেন নিজের জন্য সময় হিসেবে ধরা দিয়েছে অনেকের কাছে। নিজের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পরিমিত আহার, ব্যায়াম, যোগাসনে মনোযোগ দিয়েছেন অনেকে; কিন্তু এড়িয়ে যাচ্ছেন মানসিক স্বাস্থ্যকে। তবে এ সময়টা পুরোপুরি মানসিক চাপ মুক্ত থাকা জরুরি। কারণ আনন্দময় মন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দেহ মনের যৌথ সুস্থতাই মানুষকে সাফল্য এনে দেয়। এসব কথা আমরা সবাই জানি; কিন্তু ২৪ ঘন্টা সবকিছুর মধ্য দিয়ে নিজেকে আনন্দে রাখা প্রতিটি মানুষের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ।

বেশিরভাগ মানুষ রুটিন মাফিক চলতে চায় না, তাই রুটিন করে আনন্দে থাকা সম্ভব হবে না আমাদের জন্য। সবসময় হাসি খুশি, শান্ত মনে থাকার জন্য নিজের সাথে খেলতে হবে কিছু গেম। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ৭ দিন নিজেকে পুরোপুরি ছেড়ে দিতে হবে। কেবল আপনার যা ভালো লাগবে তাই করবেন। আপনি যদি নিজেকে সৃজনশীল নাও মনে করেন, দেখবেন নিজের অজান্তেই গান, কবিতা, ছবি আঁকার মত কাজ করছেন।

প্রতিটি মানুষের মাঝে তার শিশুসুলভ মনটি লুকিয়ে থাকে। সেই শিশুটিকে বেড়িয়ে আসতে দিন। অনেকে ঘরে একটি রাশভারী রূপ নিয়ে থাকেন ফ্যামিলি মেইনটেইন করার নামে। সেই রূপকে বিদায় দিয়ে বন্ধুসুলভ আচরণ করুন সবার সাথে। হেসে শান্তভাবে কথা বলুন, অন্যকে বোঝার চেষ্টা করুন যাতে সহজ হয়ে যাবে অনেক কিছু। বাড়ির কাজ নিজে করার চেষ্টা করুন। বাগান থাকলে সময় দিন গাছ পালাকে। প্রকৃতির আশ্রয় আপনাকে নতুন করে ভালবাসতে শেখাবে। এ সময় যে কাজটিই করুন না কেন খুব মনোযোগ দিয়ে এবং আনন্দের সাথে করবেন। তার আগে যে পরামর্শটি নিজেকে দিতে হবে তা হলো "কোন বিশেষ উদ্দ্যেশে নয়, কাজটি করছি, কারণ আমার ভাল লাগছে, আনন্দ পাচ্ছি তাই"।

পরের সপ্তাহে যে বিষয়টি হতে পারে তা হলো, আপনার দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ আরো বাড়বে। তখন আপনি একটি রুটিনে চলা শুরু করবেন ঠিকই; কিন্তু আপনার মনে হবে যে, এটাই স্বাভাবিক। মানুষের সাথে সংযোগ যেমন আমাদের আনন্দ দেয় তেমনি সেই মানুষটির কটূকথা কিংবা আচরণের প্রভাব পড়ে জীবনে। বর্তমানে হতাশার অন্যতম কারণ ঘর থেকে বেরুতে না পারা। এ কারণে খুব বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটানো, যেখানে একেকজন মানুষের দর্শন একেক রকম এবং তা সবার উপর চাপিয়ে দেবার প্রয়াসও কম নয়। চতুর্মুখী যুক্তি তর্কের প্রভাবে অনেকে হীনম্যতায় ভোগেন। তার উপর কিছু নির্ভরশীলতার বন্ধুত্বও গড়ে উঠে, যার অনুপস্থিতিতে মানসিক কষ্ট বাড়ে। একাকিত্বে আকাঙ্খার তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে মানুষ চরম হতাশায় যে কোন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।

এ সময়টাতে এসব বিষয়ে সতর্ক থাকা খুব জরুরি। কারণ ভার্চুয়াল সম্পর্ক সবাই সমানভাবে নেন না। কোন কিছুর প্রতি আপনার স্মার্ট প্রতিক্রিয়া আপনাকে অনেক রকম বিরক্তিকর বিষয় থেকে দূরে রাখবে। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে আপনার স্মার্ট ফোনটিই আপনাকে সহযোগিতা করবে। ফানি ভিডিও, রিলাপিন মিউজিক, মেডিটেশন, হালকা ব্যায়াম, এমনকি সেলফি তোলা আপনার মনকে চাঙ্গা করতে পারে। সবসময় আনন্দে থাকতে হলে অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে নিয়মিত বই পড়ার। পছন্দের লেখকের ছোট গল্প পড়ে কিংবা সফল মানুষের জীবনী পড়ার অভ্যাস গড়া যেতে পারে। ইন্টারনেটে নয়, বই পড়তে হবে ছাত্রের মত মনোযোগ দিয়ে। গান শুনে গাইতে হবে গুনগুনিয়ে। নেগেটিভ চিন্তা বাদ দিয়ে পজিটিভ চিন্তা করতে হবে। আশাহত হওয়া যাবে না। আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য নিজের ভালো কাজগুলোকে স্মরণ করতে হবে। আস্থা রাখতে হবে সামনে আরো ভাল করবেন। প্রার্থনা, মনোসংযোগ, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভালো কাজ, নৈতিক জীবনযাপন মানুষের জীবনে আনন্দের ধারা বয়ে দেয়। মানসিক চাপকে স্মার্টভাবে মোকাবেলা করতে পারলেই জীবন হয়ে ওঠে সুন্দর। আতঙ্কে সময় পাড় না করে, আগামী দিনের কাজের পরিকল্পনায় ব্যস্ত রাখতে হবে নিজেকে।

যারা চাকরি হারাবার ভয়ে ঘুমাতে পারছেন না, ধৈর্য্য ধরুন। নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন। কারণ বেঁচে থাকাটা এখন সবচেয়ে জরুরি। প্রতি রাতে ধন্যবাদ জানাবেন নিজেকে। আপনার কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা, বিনয় আপনাকে দেবে অনাবিল শান্তি। নিজেকে তৈরি করতে হবে, তবে কেবল স্কিল ডেভেলপমেন্ট নয়, নিজের মনকেও উন্নত করতে হবে। নতুন কিছু গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সামনে যে পরিবর্তন আসছে তাকে স্বাগত জানাতে হবে প্রাণবন্তভাবে।

অতীতে যা হারিয়েছেন একদম ভুলে যান। ঠিক আজ থেকেই শুরু করুন জীবনকে ভালবেসে যাপন করা। প্রতিদিন আপনার জন্য নতুন সম্ভাবনা। তাই প্রতিদিন সকালে জেগে উঠুন নতুন আনন্দের সাথে।

প্রতিষ্ঠাতা, ইয়ারা- নারীর ক্ষমতায়নে গ্রামভিত্তিক অনুপ্রেরণামূলক কার্যক্রম

আরও পড়ুন

×